আলোচনায় বিশেষজ্ঞ বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তাই এবারের কোরবানিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। যত্রতত্র নয়, নির্দিষ্ট জায়গায় পশু জবাই করতে হবে। গ্রামে-গঞ্জে যেখানে সেখানে কোরবানি করা হয়, যা পরবর্তীকালে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে, পরিবেশ নষ্ট হয়। এ জন্য কসাইখানার ব্যবস্থা করতে হবে।
গতকাল ‘করোনা মহামারিতে কোরবানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শীর্ষক’ আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং সাদাকাহ ফাউন্ডেশন অব ইউএসএ যৌথভাবে ভার্চুয়াল এই আলোচনাসভার আয়োজন করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘পশু কেনার সময় ১৮ বছরের কম এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের হাটে যাওয়া মোটেও ঠিক হবে না। যারা টিকা নিয়েছেন তারা হাটে যাবেন এবং পশু স্পর্শ করার পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। পশুর ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কেই মাস্ক পরিধান করতে হবে। অবশ্যই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। কোরবানির পর জায়গা পরিষ্কার করতে হবে এবং বর্জ্যগুলো নির্দিষ্ট গর্তে ফেলে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি অবশ্যই কোরবানির পশুর সংস্পর্শে আসবেন না।’
সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, কোরবানির প্রতিটি বর্জ্যকেই কাজে লাগিয়ে তা সম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব। পশুর চামড়া, হাড়, শিং, পাকস্থলি, মূত্রথলি, রক্ত, গোরব, পশুর উচ্ছিষ্ট, নাড়িভুড়িসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে বিদেশে রপ্তানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করা যায়। রক্তসহ অন্যান্য বর্জ্য পরিষ্কার করতে অনেকে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করেন, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, এটা পরিহার করতে হবে। গোবর আলাদা স্থানে সংরক্ষণ করে সেটা দিয়ে সার বানানো যায় এবং বিভিন্ন নার্সারি, ছাদ বাগানে, বাসার নিচের বাগানে ব্যবহার করা যায়। ঢাকার ক্ষেত্রে সবাইকে কসাইখানা ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারি বলেন, ‘সওয়াব লাভের আশায় কোরবানি করে বর্জ্য দিয়ে পরিবেশ দূষণ করছি কি না, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা অনেকে মনে করি, পশু জবাই করে গোশত ভাগাভাগির পরেই দায়িত্ব শেষ। এটা ঠিক নয়। অবশ্যই জবাই করার জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব, যা অবহেলা করা ইসলাম বিরুদ্ধ।’ সাদাকাহ ফাউন্ডেশন অব ইউএসএ-এর প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ক্যালিফোর্নিয়ার নর্থ সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএচডি ফেলো আব্দুস সালাম ভূঁইয়া ও পবার সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ।