পারিবারিক বিরোধের জেরে আলেয়া বেগম নামে এক নারী নিজের পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দিয়েছেন। শাশুড়ির দায়ের করা মিথ্যা মামলার জেরে পুত্রবধূ অনিতা জামান এখন জেলহাজতে রয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে ছেলে মনিরুজ্জামান পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর মায়ের মুক্তির দাবিতে নাবালক দুই শিশু রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। শিশু দুটির কোনো স্থানীয় অভিভাবক না থাকায় বরগুনার সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব নিয়েছেন।
জেলার সদর উপজেলাধীন ৫ নম্বর আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আলেয়া বেগম তার নিজের ১২ বছরের নাতি আলিফকে ১৮ বছর দেখিয়ে মামলায় আসামি করেছেন।
এদিকে মায়ের মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার সকাল থেকে বরগুনা টাউনহল চত্বর ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় আলিফ ও তার আড়াই বছর বয়সি ভাই গালিফ। ছোট্ট শিশু দুটিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাদের ঘিরে ভিড় জমায় স্থানীয়রা।
শিশু আলিফ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবার চাকরির সুবাদে তারা গাজীপুরে বসবাস করে আসছিল। গাজীপুরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত তার বাবা মনিরুজ্জামান। করোনার কারণে তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় গাজীপুরের বাসা ছেড়ে সবাই চলে আসে বরগুনায়।
গাজীপুরের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মেধাবী শিক্ষার্থী আলিফ ইংল্যান্ডে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। তার ভিসাও প্রস্তুত অথচ এই সময়ে তার দাদির দায়ের করা মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছে তাদের মা আনিতা জামান। শিশু আলিফ আরো জানায় তার বয়স এখন ১২ বছর অথচ মিথ্যা মামলায় তার বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে তাকেও আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, অনিতাকে জেলে পাঠিয়ে গত শুক্রবার আলেয়া বেগম তার মেয়ে মনিরাকে নিয়ে ছেলের ঘরের তালা ভেঙে সেখানে ওঠেন। তবে এই ঘরটি অনিতা জামানের বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে তৈরি করা।
আলিফ ঘরে তালা ভেঙে ওঠার বিষয়টি জরুরি কল সেন্টার ৯৯৯ এ ফোন করে অভিযোগ করলে বরগুনা সদর থানার কর্তব্যরত এসআই দেবাশীষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু ঘরে তালা ভেঙে ওঠার বিষয়টি তেমন গুরুত্বসহকারে আমলে নেয়নি। আলিফের বাবা বাড়ি আসলে তাকে ঝুলিয়ে মারা হবে বলে হুমকি দেয় আলিফের ফুপু মনিরা।
অনিতা জামানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, অনিতা জামানের জামিনের জন্য বরগুনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছি। ভার্চুয়াল আদালতে রবিবার জামিনের শুনানি হবে বলে আশা করছি। এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিসকাত সাজ্জাদ জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মনিরুজ্জামান ও তার মা-বোনদের মধ্যে কলহ হয়েছে। আলিফের বাবা-মার বিরুদ্ধে বৃদ্ধ দাদিকে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।