দেশে বর্তমানে করোনা ভাইরাস বহনকারী সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার। দেশে পাঁচ দিন পর ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১২ হাজারের নিচে নেমেছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৯ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ৮ হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯২ হাজার ৪১১ জন। এদিকে দৈনিক মৃতের সংখ্যা আবারও ২০০ ছাড়িয়েছে। পাঁচ দিন পর দৈনিক মৃত্যু শুক্রবার ২০০-এর নিচে নামলেও গতকাল শনিবার তা আবার বেড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে গত এক দিনে মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৬৬৯।
শুক্রবারের আগে টানা পাঁচ দিন দৈনিক দুই শতাধিক মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে গত ১১ জুলাই সর্বাধিক ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে আরো ৮ হাজার ৮২০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ২৩ হাজার ১৬৩ জন। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষা প্রায় ১৩ হাজার কমে যাওয়ার মধ্যে শনাক্তের হার বেড়ে আবার ২৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার তা ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বৃহস্পতিবার ছিল ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত সাত দিনে দেশে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৪৮০ জন। গত ১১ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিগত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। এই সাত দিনের মধ্যে শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিনই ২০০-এর ওপরে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত সাত দিনে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪২৯ নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছে ৮৩ হাজার ৯৬ জন। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪ জন, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহের তুলনায় নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬২৭টি ল্যাবে ২৯ হাজার ২১৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৭২ লাখ ১৫ হাজার ৫৮১টি নমুনা। গত এক দিনে কেবল ঢাকা বিভাগেই ৪ হাজার ৪৮০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের ৫০ শতাংশের বেশি। চট্টগ্রাম বিভাগে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৮৫ জন। যে ২০৪ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৮২ জনই ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। খুলনা বিভাগে ৪৯ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশালে পাঁচ জন, সিলেটে দুই জন, রংপুরে ১০ জন এবং ময়মনসিংহে চার জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে ইতিমধ্যে হাসপাতালের সব শয্যা রোগীতে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। সংক্রমণ যাতে আর বৃদ্ধি না পায় সেই জন্য সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।