দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কাঁচা পাটের বাজারে হঠাত্ ধস

লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী

এনামুল হক, খুলনা অফিস

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কাঁচা পাটের বাজারে হঠাত্ ধস নেমেছে। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক ও ক্ষুদ্র পাট ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের শুরুতে যখন কাঁচা পাট বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার টাকার উপরে, সেখানে হঠাত্ প্রতি মণ পাটের মূল্য কমে হয়েছে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। তারা এর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অপরদিকে রপ্তানিকারকরা বলছে, মহামারি করোনার বিরূপ প্রভাবের পাশাপাশি রপ্তানিকারকরা চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা পাট সরবরাহ করতে না পারা ও দেশের জুটমিলগুলোর চাহিদা মেটানোর কারণে কাঁচা পাট রপ্তানি কমে গেছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও কমে গেছে। ফলে অনেকেই পাটের ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছেন। যার প্রভাব পড়েছে কাঁচা পাটের বাজারে। মাগুরার শালিখা উপজেলার রামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান মোল্লা জানান, ‘এ বছর তিনি প্রায় ৩ একর জমিতে পাটচাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাত্ পাটের দাম মণ প্রতি ১ হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা কমে গেছে। এতে তিনি চরমভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, আগে যদি জানতাম, তাহলে এবার পাটের চাষ করতাম না’।

ক্ষুদ্র কাঁচা পাট ব্যবসায়ী তাপস কুমার কুন্ডু জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কাঁচা পাটের মোকাম বলে প্রসিদ্ধ বুনাগাতী, নারিকেলবাড়ীয়া, সীমাখালী, নহাটা, রাজাপুর, মাইজপাড়া, লাঙ্গলবাঁধসহ ফরিদপুরের বিভিন্ন মোকামে মাত্র এক-দেড় সপ্তাহ আগেও মণ প্রতি যে পাট ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা মণ। তিনি বলেন, কাঁচা পাটের মূল্য আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) তথ্য মতে, ২০০৭-২০০৮  অর্থবছর থেকে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের (এপ্রিল) মধ্যে দেশের কাঁচা পাট রপ্তানিতে ব্যাপক পতন হয়েছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের ঋণ সমন্বয় করতে না পারায় জেল খেটেছেন, আবার অনেকে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বিজেএর সূত্র মতে, এমনও অর্থবছর ছিল যে সময় বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ বেলের বেশি পাট রপ্তানি করতেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে পাট রপ্তানিতে ধস নামার কারণে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে পাট রপ্তানি। সর্বশেষ অর্থবছরে মাত্র ৫ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে। এদিকে বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে পাট রপ্তানি হলেও বর্তমানে সেটি কমে মাত্র ১৩টি দেশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এখনো বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ কাঁচা পাট আমদানি করছে।

খুলনার পিনিতাহ ট্রেড ইন্টারন্যাল কোম্পানির স্বত্বাধিকারী ও প্রগতি জুট সাপ্লাইয়ের সিইও এস এম সাইফুল ইসলাম পিয়াস বলেন, করোনার প্রভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি কমে গেছে। এছাড়া দেশে কাঁচা পাট উত্পাদনও কমে যাওয়ায় পাট রপ্তানি হ্রাসের প্রধান কারণ। ২০২০-২১ অর্থবছরে যে পাট রপ্তানি করা হয়েছে তাতে রপ্তানিকারকরা বেশি লাভ করতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, দেশেই এখন অনেক জুট মিল তৈরি হয়েছে। ফলে উত্পাদিত কাঁচা পাটের বড় একটি অংশ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা মেটানোর কারণে পাট রপ্তানি কমেছে। বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী জানান, করোনায় কাঁচা পাট ব্যবসায়ীদের খুবই খারাপ অবস্থা। সরকার থেকে কোনো প্রণোদনাও দেওয়া হয়নি।