কোরবানির হাটে প্রচুর গরু বেচাকেনা কম, দাম চড়া

অলিগলি ও খামারিতে বেশি গরু বিক্রি হচ্ছে

মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

কোরবানির পশুর বাজারে প্রচুর গরু। কিন্তু বেচাকেনা এখনো জমেনি। দামও অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি। নগরীর অলিগলিতে কোরবানির পশু দেদার বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমি ব্যাপারীরা বিভিন্ন স্থান থেকে গরু এনে অলিগলির খোলা জায়গায় রেখে বিক্রি করছে। করোনার কারণে বাজারে ভিড় এড়াতে খামার ও অলিগলি থেকে অনেকেই পছন্দের গরু কিনে নিচ্ছে। সিটি করপোরেশন ইজারা ছাড়া খোলা জায়গায় পশু বিক্রি ঠেকাতে অভিযান চালাচ্ছে। ইজারাদাররাও এসব জায়গায় গরু বিক্রি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।

 ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, এবার কোরবানির পশুর দাম বেশি। প্রতি মণ ৩০ হাজার টাকা পড়ছে। বিক্রেতাদের কাছে প্রচুর গরু থাকলেও এবার দাম চড়া। পরিবহন ও গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরুর উত্পাদন খরচ বেশি পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। চট্টগ্রামে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রচুর কোরবানির পশু আনা হয়েছে। কুষ্টিয়া, যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী থেকে প্রচুর দেশীয় জাতের কোরবানির পশু এনেছে ব্যাপারীরা। আরো গরু আসার পথে রয়েছে। মহাসড়কে যানজটের কারণে গরুবাহী অসংখ্য ট্রাক আটকা পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর অলিগলিতে এবার ব্যাপক কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। খালি জায়গায়, বিল্ডিংয়ের নিচে খালি জায়গায়, গলির মধ্যে রেখে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর চান্দগাঁও, ফরিদার পাড়া, খাজা রোড, মাদাবাড়ি, পাহাড়তলী, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, নাসিরাবাদ, ফয়েজলেক, ঝাউতলা, ডবলমুরিং, পতেঙ্গা, হালিশহরসহ বিভিন্ন স্থানে গলিতে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। এখানে জনসমাগম না থাকায় ক্রেতারা দরকষাকষি করে পছন্দের গরু কিনে নিচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার অনলাইনে খামারিতে ও গলিতে বেশি কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। করোনার ভয়ে ক্রেতারা এসব জায়গা থেকে গরু কিনে নিচ্ছে। খাজা রোড এলাকায় এনামুল নামে এক ব্যাপারী কুষ্টিয়া থেকে ২০টি গরু এনেছেন। প্রতি গরু ১ লাখ টাকার নিচে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১০টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তার আরো দুটি গাড়ি গরু বুকিং আছে। দুই-এক দিনের মধ্যে এসব গরু পৌঁছবে। ফরিদার পাড়া এলাকায় আবদুর রহিম ৪৫টি গরু এনেছে। একটি খোলা জায়গায় রেখে এসব গরু বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিদিন প্রচুর ক্রেতা আসছে। ইতিমধ্যে ১৩টি বিক্রি করেছি। আরো দুুটি ট্রাক আসার পথে রয়েছে।’

নগরীতে ইজারা নিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ছয়টি কোরবানির হাট বসেছে। বাজারগুলোতে প্রচুর কোরবানির পশু এসেছে। তবে বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। ক্রেতারা বাজার ঘুরে দেখে দরদাম জিজ্ঞাসা করে চলে যাচ্ছে। বাজারে বেচাকেনা কম হওয়ায় ব্যাপারী ও বাজার ইজারাদার হতাশ। তারা নগরীর অলিগলিতে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ নগরীতে বিক্ষিপ্তভাবে গরু বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা বাজারে কম আসছে। সাগরিকা গরুর বাজারের ব্যাপারী শওকত আলী বলেন, এবার গরুর দাম বেশি । প্রতি মণ ৩০ হাজার টাকা কেনা পড়বে। বেচাকেনা নেই। নগরীতে অবৈধভাবে গরু বিক্রি হওয়ায় ক্রেতারা বাজারে কম আসছে।

সাগরিকা পশুর বাজারের ইজারাদার আবুল কালাম বাবুল বলেন, আমি এবার ১১ কোটি টাকা দিয়ে বাজার ইজারা নিয়েছি। কিন্তু অলিগলিতে বিভিন্ন স্থানে ২০-৩০টি করে গরু রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’ খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, খামারিদের ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি হয়ে গেছে। গরু বড় হলে মণ ২৫-২৬ হাজার টাকা মূল্য পড়ছে। গরু ছোট হলে দাম বেশি পড়ছে। ক্রেতারা ওজন করে কিনে নিচ্ছে।’ এদিকে সিটি করপোরেশন নগরীতে অবৈধভাবে গরু বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে ইজারাবিহীন খাইন বানিয়ে গরু বিক্রি করার দায়ে বিক্রেতাকে অর্থ জরিমানা করেছে।