সাড়ে তিন বছরেও কাজ শেষ হয়নি ৫ কোটি টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত

বগুড়া-নওগাঁ-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

বগুড়া-জয়পুরহাট এবং বগুড়া-নওগাঁর দুই আঞ্চলিক মহাসড়কের মাটি খুঁড়ে রেখে সাড়ে তিন বছরেও কাজ শেষ করতে না পারায় একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২ লাখ টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে সড়ক বিভাগ। বাজেয়াপ্ত করা জামানতের টাকা সড়ক দুটির বেহাল অংশ জরুরি ভিত্তিতে ঠিক করার কাজে ব্যবহার করা হবে। সড়ক ও জনপথের (সওজ) বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ৮ জুলাই নাভানা কনস্ট্রাকশনের জামানতের টাকা আদায় করা হয়েছে। একজন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে কাজের অগ্রগতি যাচাই করে প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজ বুঝে পাওয়া গেছে। দুই আঞ্চলিক মহাসড়কের অসমাপ্ত কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটির জামানতের ১০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত হিসাবে ঐ টাকা আদায় করা হয়।

সওজ থেকে গত ৬ জুন কার্যাদেশ বাতিলের চিঠি পাঠানো হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটিকে। এছাড়া দুই সড়কের ইট-কার্পেটিং তুলে, মাটি খুঁড়ে বেহাল করে রাখা অংশে দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে এইচবিবি (ইট বিছানো) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। এই কাজের জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রশস্তকরণের কাজ শেষ করার কথা। উত্তরাঞ্চলের চারটি সড়কের মান ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ অঞ্চলে সওজের কোনো দরপত্রে নাভানা যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে চিঠি পাঠানো হবে।

সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে একনেক সভায় ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অধীনে বগুড়ার মোকামতলা-জয়পুরহাট ও বগুড়া-নওগাঁ সড়ক ১৮ থেকে ২৪ ফুটে উন্নীত করার জন্য আলাদাভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়। বগুড়ার মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটার অংশের কাজ পায় মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন।

২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করে নাভানা কনস্ট্রাকশন। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নাভানা কনস্ট্রাকশন মহাসড়কের মোকামতলা থেকে কালাই উপজেলার পুনট বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার অংশের সম্প্রসারণের জন্য ইট-খোয়া-কার্পেটিং তুলে কাজ শেষ না করেই দীর্ঘদিন ফেলে রাখে। কয়েক দফায় কাজ শেষ করার তাগাদা দেওয়া হয়। গত বছরের ২১ জুলাই ২৮ দিন সময় বেঁধে দিয়ে নাভানা কনস্ট্রাকশনকে চিঠি দেয় সওজ। এরপর কিছু কাজ করে আবার তা বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু একই সময় কাজ পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করলেও নাভানা কনস্ট্রাকশন কাজ শেষ করতে পারেনি। এখনো বগুড়ার চারমাথা-গোদারপাড়া থেকে সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশ বেহাল। যান চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে।