রাজশাহীতে করোনায় জমজমাট ঈদ মার্কেট

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উত্সব ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজশাহীতে টানা এক মাস চার দিনের লকডাউন শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই নগরীতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। খুলে যায় কিছু দোকানপাট। বুধবার সন্ধ্যায় না জমলেও বৃহস্পতিবার থেকেই নগরীর ঈদ মার্কেট জমে উঠেছে। করোনার সময়ও বাড়িতে বসে নেই লোকজন। ঈদের কেনাকাটার জন্য ভিড় করছে শপিং মলে। এদিকে যানবাহন কিংবা মার্কেট কোনো জায়গাতেই স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে তেমন গুরুত্ব নেই। অধিকাংশ মানুষের কাছে মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরছে না। অনেকের মুখ থেকে নাকে উঠছে না মাস্ক। আবার কারো থুতনির নিচেই থাকছে।

গতকাল শনিবার নগরীর সাহেববাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে ঘিরে নগরী জুড়ে ব্যাপক কর্মচঞ্চলতা শুরু হয়েছে। শপিং মল ও দোকানপাট, যানবাহন পরিপূর্ণ খোলা থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করছে যাত্রী, চালকসহ ক্রেতা-বিক্রেতারা। নগরীর সাহেববাজার, আরডিএ মার্কেট, কাপড়পট্টি, গণকপাড়া, নিউ মার্কেট, কোর্ট বাজার এলাকায় বেশি মানুষের সমাগম দেখা গেছে। সঙ্গে ফুটপাতের দোকানগুলোতেই ছিল ক্রেতাদের উপস্থিতি। ফলে মার্কেটগুলোতে এত বেশি ভিড় হচ্ছে, তাতে মনেই হয় না দেশে করোনা বলে কোনো রোগ আছে। সবাই নির্দ্বিধায় কেনাকাটা করছে। ঈদের আনন্দ যেন আটকানো দায়। তবে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে জানতে চাইলেই বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে তারা।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘আমরা যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। তবে ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করতে অনুরোধ করলেও তারা শুনছে না। বলতে গেলে বরং বিপরীত ফল হয়।’

এ বিষয়ে আরডিএ মার্কেট ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী জানান, শুক্রবার থেকে মার্কেটে কেনাবেচা ভালোই হচ্ছে। এটা আরো বাড়বে। তবে স্বাস্থ্যবিধি সেভাবে নিশ্চিত হচ্ছে না। এটা শুধু আরডিএ মার্কেটে নয়, পুরো নগরীর চিত্রই এমন। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে ব্যাবসায়িক নেতা ও প্রশাসনের সমন্বয়ে কমিটি করে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।