হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভনেল ময়েসকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির বিচার বিভাগের একজন সাবেক কর্মকর্তা। প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবার কলম্বিয়ার পুলিশ বলছে, সম্ভবত বিচার বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা জোসেফ ফেলিক্স বাদিও এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ৭ জুলাই রাতে হাইতির প্রেসিডেন্ট ময়েসকে হত্যা করে ভাড়া করা খুনিরা। এই খুনিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার নাগরিকরা রয়েছেন। যারা বিভিন্ন সময় সেনা বাহিনী ও পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, ইন্টারপোলের পাশাপাশি ময়েস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে হাইতি ও কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ। কলম্বিয়ার পুলিশ প্রধান বলেন, ঐ নৃশংস ঘটনার তিন দিন আগে হত্যার নির্দেশ দিয়ে থাকতে পারেন ফেলিক্স বাদিও। কলম্বিয়ার পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেনারেল জর্জ ভার্গাস এ কথা বলেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযোগের ব্যাপারে তাত্ক্ষণিকভাবে বাদিওর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তিনি কোথায় আছেন সেটাও স্পষ্ট নয়।
জেনারেল ভার্গাস বলেন, তদন্তে দেখা গেছে—বাদিও কলম্বিয়ার সাবেক সেনা দুবারনি কাপাডোর ও জার্মান রিভেরাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাদের হাইতির প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে হবে। তবে অভিযোগের স্বপক্ষে তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ দেননি।
এর আগে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কয়েক মাস ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ডমিনিকান রিপাবলিকে। মূল পরিকল্পনায় ছিলেন হাইতি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিত্সক ক্রিশ্চিয়ান এমানুয়েল স্যানোন। তবে হাইতির পুলিশ এ বিষয়ে খুব অকাট্য প্রমাণ এখনো তুলে ধরতে পারেনি।
হাইতির কর্মকর্তারা জানার চেষ্টা করছেন যে, প্রেসিডেন্টের নিজের নিরাপত্তা রক্ষীরা এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন কি না। এজন্য বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের জাতীয় নিরাপত্তা ইউনিটের প্রধান দিমিত্রি হেরার্ডকে আটক করে পুলিশ। প্রেসিডেন্ট ময়েসকে হত্যায় যে গ্রুপটি অংশ নেয় তাদের মধ্যে ছিল কলম্বিয়ার ২৬, হাইতি বংশোদ্ভূত দুই জন আমেরিকান। এখন পর্যন্ত ১৮ জন কলম্বিয়ান নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া তিন জন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং পাঁচ জন পলাতক। কলম্বিয়ার পুলিশ প্রধান জানান, তারা তদন্তে সব ধরনের সহায়তা করছেন। আটক কলম্বিয়ার নাগরিকরা যাতে কনস্যুলার সুবিধা পান সে চেষ্টাও চলছে বলে জানান।