গুলশানে ফ্ল্যাট থেকে মেডিক্যালছাত্রীর লাশ উদ্ধার

রাজধানীর গুলশান নিকেতন এলাকায় নিজ বাসায় মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ২১ বছর বয়সি ফারিয়া হায়দারকে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া যায় বলে তার বাবা জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ফারিয়ার বাবা আলম হায়দার জানান, ফারিয়া মালয়েশিয়ার একটি মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ত। করোনা সংক্রমণের কারণে দেশে আসে। বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাসে অংশ করতো ফারিয়া। ফারিয়ার মৃত্যু নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানা না গেলেও আলম হায়দারের ধারণা তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কি কারণে ঐ মেডিক্যাল ছাত্রী আত্মহত্যা করতে পারেন তা জানা যায়নি।

গুলশান থানার এসআই বজলুর রহমান বলেন, ফারিয়ার মা-বাবা দুই জনই আমাকে বলেছেন, তাদের মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই অবস্থার মধ্য দিয়েও ফারিয়া অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস করতেন। মালয়েশিয়ার মেডিক্যালে ভর্তি হলেও ফারিয়া সেখানে একবারও যেতে পারেননি। করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে তার মালয়েশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল।

ফারিয়ার পরিবারের বরাত দিয়ে এসআই বজলুর আরো বলেন, এর আগে আরো দু-তিন বার ফারিয়া হায়দার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এখন কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, পরিবার জানে না। বজলুর রহমানের দাবি, তিনি এবং গুলশান থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফারিয়া হায়দারের কক্ষে গিয়ে দেখেন, ঐ কক্ষের দরজা লাগানো যায় না। কেন দরজা লাগানো যায় না, এমন প্রশ্নের জবাবে বজলুর রহমান বলেন, হতে পারে ফারিয়া এর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে তার বাবা এই ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

ফারিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন কি না, বা পরিবারের এ দাবি সঠিক কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের কথা জানান এসআই বজলুর রহমান। আলম হায়দার গুলশান থানা পুলিশের কাছে একটি আবেদন করেছেন। তিনি বলেছেন, বিনা ময়নাতদন্তে তার  মেয়ের লাশ চান তিনি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।