মিঠুন কেন জাতীয় দলে?

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের ২য় ওয়ানডেতেও ব্যর্থ মোহাম্মদ মিঠুন। দলের বিপদের মুহূর্তে মাত্র ২ রান আউট হয়ে গেছেন তিনি। তার বিদায়ে বিপদ আরো বেড়েছে তামিম বাহিনীর। মুশফিকবিহীন মিডল অর্ডারের করুণ দশা ফুটে উঠেছে আরো একবার।

জাতীয় দলের জার্সিতে মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যারিয়ারের বয়স ৭। এই সময়ে মাত্র ৩৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। রান করেছেন মোটে ৬৮৪! বারবার বাদ পড়েছেন দল থেকে, আবারো ফিরেছেন। কোন যুক্তিতে তাকে ফেরানো হয় সেটির যৌক্তিক ব্যাখ্যা অবশ্য নির্বাচকরা কখনোই দিতে পারেননি।

সবশেষ চলতি বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের ১ম ওয়ানডে ম্যাচে ‘গোল্ডেন ডাক’ মারার পর বাদ পড়েন দল থেকে। সিরিজের পরের ম্যাচগুলোতে আর খেলানো হয়নি তাকে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে আবারো শুরুর একাদশে তিনি। বরাবরের মতোই ব্যর্থ হয়েছেন পরপর ২ ম্যাচে। 

২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর ২ ম্যাচ খেলে বাদ পড়েন তিনি। দলে ফেরেন ২০১৮ সালে। সেবছর ১১টি ম্যাচ খেলে ২ ফিফটি সহ করেন ২১৫ রান। 

২০১৯ সালটা তার ক্যারিয়ারের সেরা বছর বলা চলে। ওই বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরপর দুই ম্যাচে ফিফটি হাঁকান মিঠুন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ৪৩ রানের একটি ইনিংস। তারপরও বছরশেষে তার গড় মূল গড়ের চেয়েও কম। ১১ ম্যাচে তিনি করেন ২৫২ রান। গড় ২৫.২০।

গত বছর সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩টি ম্যাচ খেলেন তিনি। হাঁকান একটি ফিফটি। 

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মিঠুন। রান করেছেন ১০৯। এরমধ্যে মার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ৭৩ রানের একটি ইনিংস। তার মানে, ওই এক ইনিংস বাদ দিলে চলতি বছরে খেলা বাকি ৫ ম্যাচে তার রান মোটে ৩৬!

অভিজ্ঞতায় ভরা বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে মিঠুনের উপস্থিতিটা সেভাবে টের পাওয়া যায় না। তার ব্যর্থতাও ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে দলের প্রয়োজনের সময়ে তার ব্যর্থতা চোখে লাগার মতো। একইসঙ্গে মুশফিক না থাকায় মিডল অর্ডারে তার দায়িত্বও ছিলো এবার বেশি। কিন্তু দলের ভরসা হয়ে উঠতে পারলেন কই মিঠুন? আরো একবার দলে তার থাকার যৌক্তিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিলেন মিঠুন নিজেই!

ইত্তেফাক/এএএন