ছায়াপথ

মাধব রায়

কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

গতকালের পর

নীলকান্তবাবু বললেন, এটি অনুমানভিত্তিক। নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সমপ্রতি পত্রিকায় বেরিয়েছে আমাদের ছায়াপথে অর্থাত্ আকাশগঙ্গায় বুদ্ধিমান প্রাণীদের বেশ কিছু সভ্যতা রয়েছে। কম করে হলেও ৩৬ টি সভ্যতা রয়েছে, যাদের সাথে মানুষের যোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব। দ্যা অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল এ এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীদের জন্ম ও বিকাশের প্রক্রিয়া যদি আমাদের জানা বিজ্ঞানের নিয়মগুলো মেনে চলে, তাহলে সেই প্রাণীদের চেহারাও দেখতে অনেকটা আমাদের মতোই হবে। আমাদের ছায়াপথেই এরকম ৪ টি থেকে ২১১ টি সভ্যতা রয়েছে। আর আমরা যোগাযোগ করতে পারি এরকম সভ্যতা প্রায় ১৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার কনসেলিস বলেন, এই গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ফ্র্যাঙ্ক ড্রেক, সমীকরণের মাধ্যমে ভিনগ্রহে উন্নত প্রাণী থাকার যে সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন তা ছিল অনিশ্চয়তাপূর্ণ। আমরা এই ড্রেক সমীকরণটি পরিমার্জন, পরিবর্ধন করে দেখতে পেয়েছি আমাদের ছায়াপথে পৃথিবীর মতো অন্যান্য গ্রহে আমাদের চেয়েও উন্নত প্রাণী থাকতে পারে। দ্যা গার্ডিয়ান পত্রিকায় এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিন্দু ইতোমধ্যে হাই তুলতে শুরু করেছে, তার ঘুম পেয়েছে। বর্ণালি খুব খুশি। বিকেল বেলার বর্ণালির গল্পের চেয়ে রাতের ছায়াপথ এর গল্প তার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। আঙ্কেল খুব যত্ন করে করে এগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বিন্দুর খুব মজা-ভাবল বর্ণালি। তার বাবা তাকে পদার্থবিজ্ঞানের গল্প শোনায়। গল্প-কথায় পদার্থবিজ্ঞান। তিনি সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে চেষ্টা করেন। রাগ করেন না। ইশ, স্কুলের স্যাররা যদি এরকম হতো!

নীলকান্তবাবু বললেন-মামণি, তোমার কি ঘুম পেয়েছে?

বিন্দু বলল-হ্যাঁ বাবা আমরা এবারে ঘুমোব। চল বর্ণালি।