সমকালীন : বই ও পাঠাগার

 

প্রমথ চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, এদেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে কিছু বেশি।’

প্রমথ চৌধুরী যে সময়ে এই কথা বলেছিলেন তখন আজকের দিনের মতো ঘরে ঘরে কমপিউটার ছিল না, বাড়িতে বসে ইন্টারনেটের সাহায্যে বই পড়ার বিপুল সুযোগ তখন ছিল না, তাই বই পড়ার মূল জায়গা হিসেবে লাইব্রেরির কথা তিনি বলেছেন। আমাদের যুগেও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে লাইব্রেরি ছিল বই পড়ার প্রধান জায়গা। তবে কমপিউটারের এই যুগেও লাইব্রেরির গুরুত্ব কিন্তু কমেনি। প্রয়োজন লাইব্রেরির পরিষেবার মান আরো বাড়ানো। লাইব্রেরি মানে একটি বই জমা নিয়ে অন্য একটি বই দেওয়া নয়, পাঠকদের চাহিদামতো বইয়ের সন্ধান দেওয়া, পাঠকের রুচি, শিক্ষার মান জেনে ভালো লাগার বইয়ের সন্ধান দেওয়া, কোনো একটি বিষয় কোন বইয়ে পাওয়া যাবে তার সন্ধান দেওয়া। এজন্য প্রশিক্ষিত লাইব্রেরিয়ান দরকার।

আমেরিকার মতো দেশে যেখানে ইন্টারনেট ব্যবহার বাংলাদেশের থেকে কয়েকগুণ বেশি, সেখানেও লাইব্রেরির গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পরিষেবাযুক্ত উন্নত মানের লাইব্রেরি তৈরিও করা হয়েছে। ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী সাড়া জাগানো একটি লাইব্রেরি তৈরি হয়েছে, যেখানে নিঃশব্দে বই পড়ার ঘর যেমন আছে, তেমনই আলোচনা করা, গল্প করার ঘর আছে, আছে ভিডিও দেখার, ভিডিও গেম খেলার ঘর, আছে লেসার প্রিন্টার, ৩ডি প্রিন্টার, যে কোনো তথ্য জানানোর জন্য আছেন প্রশিক্ষিত লাইব্রেরিয়ান।

লিয়াকত হোসেন খোকন