মাতামুহুরী নদীর কাইজ্জারদিয়া পয়েন্টে ভাঙন

হুমকিতে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি

এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে কাইজ্জারদিয়া পয়েন্ট। বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে এই ভাঙন দেখা দেয়। এদিকে গত কয়েক বছরে নদীর ভাঙনে বাঘগুজারা-কোনাখালী হয়ে বদরখালী সড়কের প্রায় ১৫০ মিটার পর্যন্ত তীরসহ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এছাড়া কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কোনাখালীর হাজারো বসতবাড়ি, ফসলি জমি ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, ভাঙনরোধে এবার কোনাখালী ইউনিয়নের তিনটি অংশে ডাম্পিং করা হচ্ছে ৩২ হাজার জিও ব্যাগ। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছর সাতটি প্যাকেজে ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৫১০ মিটার এলাকায় ডাম্পিং করা হচ্ছে ৩২ হাজার ৩৯টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ। ইতিমধ্যে তিনটি পয়েন্টে বেশির ভাগ জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে কোনাখালী ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কোনাখালীর হাজারো বসতবাড়ি, শত একর ফসলি জমি থাকে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, এবারের বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়ে কাইজ্জারদিয়া পয়েন্টটি। এতে বাঘগুজারা-কোনাখালী ভায়া বদরখালী সড়কের প্রায় ১৫০ মিটার পর্যন্ত তীরসহ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঐ পয়েন্টসহ তিন পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চকরিয়া উপজেলার বদরখালী শাখা কর্মকর্তা (এসও) জামাল মোর্শেদ বলেন, মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের কবল থেকে বাঘগুজারা-কোনাখালী ভায়া বদরখালী সড়ক এবং ইউনিয়নের কাইজ্জারদিয়া পয়েন্টে ১৫০ মিটার, কন্যারকুম পয়েন্টে ২০০ মিটার ও মরংঘোনা পয়েন্টে ১৬০ মিটার এলাকায় মোট সাতটি প্যাকেজে ৩২ হাজার ৩৯টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ স্থাপন কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনটি পয়েন্টে জরুরি ভিত্তিতে ৫১০ মিটার তীর সংরক্ষণকাজের বিপরীতে মোট বরাদ্দ ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, আপাতত অর্থবরাদ্দ না থাকলেও মাতামুহুরী নদীর চকরিয়ার কোনাখালীতে তিনটি অংশের ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ৫১০ মিটার এলাকায় তীরসংরক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পাউবোর ট্রান্সফোর্স টিম অনুকূল স্থানে উপস্থিত থেকে জিও ব্যাগ পরিমাপ শেষে তা নদীতে ডাম্পিং করছেন। এখানে শিডিউল অনুযায়ী তিনটি পয়েন্টে মোট ৩২ হাজার ৩৯টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। আশা করি, কাজ শেষ হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে কোনাখালী ইউনিয়নের অরক্ষিত এসব এলাকা ও নদীর তীর, সড়ক এবং লোকালয় রক্ষা পাবে।