কুটিরশিল্পের মর্যাদা দাবি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু লাইফ ম্যাংগো মিউজিয়ামের আওতায় এনে আমসত্ত্ব তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও এটিকে কুটিরশিল্পের মর্যাদা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
সফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
শিবগঞ্জে বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩ হাজার নারী আমসত্ত্ব তৈরির সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু আমসত্ত্ব তৈরির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এটি কুটিরশিল্পের মর্যাদা পাচ্ছে না। অন্যদিকে আমসত্ত্ব্ব তৈরির সঙ্গে জড়িত নারীরা ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, শিবগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ৩ হাজার নারী আমসত্ত্ব্ব তৈরি করেন। মনাকষার মানুয়ারা বেগম, মোবারকপুরের বৃষ্টি বেগম, শ্যামপুরের সায়েরা বেগমসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ২০-২৫ জন নারীর সঙ্গে আলোচনার সময় তারা বলেন, আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমবাগান থেকে আম কুড়িয়ে আনে। যেসব আম ক্রেতারা কেনেন না, সেসব পানিতে ধুয়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তারা আরো জানান, এক কেজি পাকা আম থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম আমসত্ত্ব্ব হয়। এসব বিক্রি করে তাদের সন্তানদের পড়ালেখার খরচও চালান তারা। কানসাটের সানুয়ারা বলেন, প্রশিক্ষণ পেলে আমাদের তৈরি করা আমসত্ত্ব্বগুলো আরো উন্নতমানের হতো এবং ভালো দাম পেতাম। গ্রামে গ্রামে ফেরিওয়ালা হিসেবে আমসত্ত্ব ক্রয়কারী উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের চামাবাজার এলাকার হাবিবুর রহমান হবির জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে আম মৌসুমে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মহিলাদের কাছ থেকে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে ১০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত আমতা (আমসত্ত্ব) ক্রয় করে কানসাটে বিভিন্ন আড়তে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। এ ব্যবসায় কোনোদিন ৫০০ টাকা, আবার কোনোদিন ১ হাজার টাকা উপার্জন হয়। একই ধরনের কথা বলেন, শ্যামপুরের মতিউর রহমান, কানসাটের মশিউর রহমান, মোবারকপুরের এমালি হোসেনসহ আরো ১৫-২০ জন ফেরিওয়ালা। তারা আরো জানান, শিবগঞ্জে প্রায় ৩০০ জন ফেরিওয়ালা শুধু শিবগঞ্জ নয়, পার্শবর্তী ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে আমসত্ত্ব্ব কেনে। ৪ মাসের এ মৌসুমি ব্যবসা করে সারা বছরের খরচ জোগায়। এখানে প্রায় ২০-২৫টা আড়ত আছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলা মাসিক উন্নয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দিব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বী ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু লাইফ ম্যাংগো মিউজিয়ামের আওতায় এনে আমসত্ত্ব তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও এটিকে কুটিরশিল্পের মর্যাদা প্রদানসহ আমসত্ত্ব সংরক্ষণ ও বিদেশে রপ্তানি করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, ‘উপজেলায় আম থেকে আমসত্ত্ব তৈরি করার জন্য নারীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও এটিকে কুটিরশিল্পের মর্যাদা প্রদানের চেষ্টা করা হবে। তাছাড়া আমসত্ত্বের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নারীদের উত্সাহ প্রদানে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’