সেবামূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেছেন, সরকার কে? সরকার হচ্ছে জনগণের সেবা করবে। কাজেই যারা সেবা করবে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাত্ জনগণের সেবামূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। সরকারে থেকে শুধু সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করব তা নয়, এখানে আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রতি। জনগণের কল্যাণে, স্বার্থে এবং ভাগ্য পরিবর্তনে। সেই কথা চিন্তা করেই আমরা সব কর্মকাণ্ড-বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে করোনার ভ্যাকসিন দিতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে বাদ না থাকে, সেভাবে আমরা         পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি। ভ্যাকসিন আসছে। আমাদের দেশের সবাই যেন ভ্যাকসিনটা নিতে পারে তার জন্য যত দরকার আমরা তা ক্রয় করব। আমরা চাচ্ছি যে দেশের মানুষ যেন কোনো রকম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে, ইনশাআল্লাহ কেউ বাদ যাবে না।

গণভবন থেকে রবিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং ‘এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২১’-এ অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মহামারির মধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহসী ভূমিকা রাখায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

পুরোনো নেতিবাচক মনোভাব বদলে আরো বেশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করায় সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যে জিনিসটা এখন লক্ষ্য করি যে প্রত্যেকটা সরকারি অফিসারদের ভেতরে আগে যেমন ছিল ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’—সেটা এখন নেই। আজকে প্রত্যেকে কিন্তু নিজে নিজের কাজটাকে নিজের বলে গ্রহণ করছে, বাস্তবায়ন করবার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। আসলে এটাই সব থেকে বড় কাজ বলে আমি মনে করি।

অনুষ্ঠানে সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সিনিয়র সচিবগণ ২০২১-২২ সালের এপিএ স্বাক্ষর করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরকৃত ডকুমেন্ট গ্রহণ করেন। অষ্টম বারের মতো রবিবার এপিএ স্বাক্ষরিত হলো। মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এপিএ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করেন। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের বাড়ি গমনেচ্ছুক যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেন। টানা তিন বারের সরকারপ্রধান বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে এ পর্যন্ত আমি যেটা লক্ষ্য করেছি, সর্বক্ষেত্রে যারা প্রশাসনে আছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে আছেন সবার ভেতরে কিন্তু একটা পরিবর্তন এসেছে। সবাই কিন্তু আমাদের দেশের কাজগুলো, যেগুলো জাতির মঙ্গলের জন্য, জনগণের জন্য—সেই কাজগুলো ওউন করেছেন। অর্থাত্ আপন বলে গ্রহণ বা দায়িত্ব বলে গ্রহণ করে আপনারা তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন বলেই এত স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। আজকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ একটা সম্মানজনক অবস্থায় এসেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননাপ্রাপ্ত ১০টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি অভিনন্দন জানাই সার্বিক মূল্যায়নে প্রথম স্থান অর্জনকারী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে। আমি আশা করি, মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সেবক হিসেবে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রীত্ব আমার জন্য কোনো কিছু নয়, শুধু একটা সুযোগ মানুষের জন্য কাজ করার, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার এবং  যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তা বাস্তবায়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

মহামারিতে আছি ‘বড় জেলখানায়’ 

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে সরাসরি কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে আমি কিন্তু বলতে গেলে এক রকম বন্দি জীবনেই রয়েছি। তার আগে ছিলাম ছোট জেলখানায়। এখন আছি বড় জেলখানায়। কারণ এই গণভবন থেকে আর বের হতে পারি নাই।’ জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালে গ্রেফতার হয়ে ১১ মাস বিশেষ কারাগারে অন্তরীণ সময়ের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে (গণভবন) একটু বড় জেলখানা, এটা হলো কথা। একটু লিবার্টি আছে, দোতলা থেকে নিচে নামতে পারি, মাঠে হাঁটতে পারি—এই পর্যন্তই।’