অক্সিজেন সংকটে সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল করোনা রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে

সিলেট নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো তীব্র অক্সিজেন সংকটের কারণে করোনা রোগী ফিরিয়ে দিচ্ছে। এতে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে ও শঙ্কা বাড়ছে। সিলেটের বেসরকারি ক্লিনিক ও মেডিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো অক্সিজেন সংকটের কারণে করোনা রোগী নিতে পারছে না। যারা ভর্তি আছেন তাদের অক্সিজেন ঠিক মতো দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়েই তারা উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় নতুন রোগীর দায় কেউ নিতে চাচ্ছে না। তারা বলেন, আমরা অসহায়। ডা. নাসিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতা রয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু সিলেটে অক্সিজেনের সরবরাহ কম। এখন অন্তত ২০-৩০ ভাগ বেশি অক্সিজেন স্টক না থাকলে যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠতে পারে। ঈদ, যানজট নানা কারণে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়লে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে ২০-২৫ জন রোগীর চরম অবস্থা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।  

সময়মতো অক্সিজেন নিয়ে গাড়ি না আসার কারণে সিলেটে গত এক সপ্তাহ ধরে অক্সিজেন সংকট চলছে। শুক্রবার রাতে সিলেটে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় সাত-আট জন রোগীকে নিরুপায় হয়ে শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে সেখান থেকেই অক্সিজেন সরবরাহ করে কোনো রকমে রাত পার করা হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজটের কারণে অক্সিজেন নিয়ে গাড়ি সময়মতো আসতে পারেনি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।   

সূত্র জানায়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন লাগছে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি। সুবহানীঘাটের কমিউনিটি বেইজড ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মুরশেদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাদের এই মুহূর্তে চাহিদা ৬০টি সিলিন্ডার। কিন্তু  সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা দিতে পারবে মাত্র ২৫টি।  স্পেক্টার সিলেটের ডিস্ট্রিবিউটর মাসুদ আহমদ বলেন, দেশে  করোনা আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। তাছাড়া বেনাপোল থেকে গাড়ি এসে অক্সিজেন রিলিফ (সরবরাহ) করে দিয়ে যায়। করোনা পরিস্থিতি, যানজট ইত্যাদি কারণে নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর সিলেটে আসছে অক্সিজেনবাহী গাড়ি।

সিলেট বিভাগে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলছে। আগের ৯ জনের রেকর্ড ভেঙে রবিবার মৃত্যু বেড়ে ১২ জনে উন্নীত হয়। এর মধ্যে ১১ জনই সিলেট জেলার বাসিন্দা।