যুক্তরাজ্য জুড়ে করোনা ভাইরাসের নতুন ঢেউ শুরু হলেও অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সোমবার মধ্যরাত থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর রাজধানী লন্ডনের অনেক তরুণ বাসিন্দা বিধিনিষেধমুক্ত একটি লাইভ সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেন। গত বছর মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম তারা সারা রাত ধরে নেচেছেন এবং অনেকে মিলে আনন্দ করেছেন।
কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে থাকা দেশগুলোর একটি ব্রিটেন। দেশটিতে সংক্রমণের নতুন ঢেউ শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইংল্যান্ডে অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছেন, যাকে কিছু লোক ‘স্বাধীনতা দিবস’ বলে অভিহিত করছে। ইউরোপের অন্য প্রায় সব দেশের আগে তড়িঘড়ি করে প্রাপ্তবয়স্ক জনসাধারণের ৬৮ শতাংশকে টিকার দুটি ডোজ দেওয়ার পর ইংল্যান্ড থেকে অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নেয় জনসন সরকার।
সংক্রমণের পূর্ববর্তী ঢেউয়ের তুলনায় এবার কোভিড-১৯-এর কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা কম হবে বলে ধারণা করছে তারা। কত জন একসঙ্গে জড়ো হয়ে সাক্ষাত্ করতে পারবেন বা কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবেন এখন তার ওপর আর কোনো বিধিনিষেধ নেই।
রবিবার স্থানীয় সময় বিকালে টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেছেন, ইংল্যান্ডকে লকডাউন থেকে বের করে আনার এটিই ‘উপযুক্ত সময়’। আরো দেরি করলে শরত্ ও শীতকালে করোনা ভাইরাস ‘শীতল আবহাওয়ার সুবিধা পেতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মধ্যরাতেই নাইট ক্লাবগুলো খোলা হয়, পাব ও রেস্তোরাঁয় টেবিল সার্ভিসের আর প্রয়োজন হবে না। কিছু এলাকায় মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা বাধ্যতামূলক নয়। নাইট ক্লাব, ট্র্যাভেল কোম্পানি, পরিষেবা শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকেরা অর্থনীতি পুনরায় সচল করার জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন; শিক্ষার্থী, তরুণেরা ও অভিভাবকেরা কঠোর অনেক নিয়ম কোনো উচ্চবাচ্য ছাড়াই উপেক্ষা করে এসেছেন। তার পরও বিধিনিষেধের বিষয়ে ব্রিটিশ সমাজ বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ভাইরাস মানুষ মারা অব্যাহত রাখবে এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত লোকজন কঠোর বিধিনিষেধ ধরে রাখার পক্ষে আর শান্তিকালীন সবেচেয়ে কঠোর এই বিধিনিষেধে যারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন, তারা এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।