সুশিক্ষায় আলোকিত হোক আগামী প্রজন্ম

আজকের শিশুর মাঝেই আগামীর ভবিষ্যত্ নিহিত। শিশুদের তাই যথাযথ শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। কেননা, এই শিশুরাই বড় হয়ে আগামীর নেতৃত্ব দেবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর তাই শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করতে চাই সুশিক্ষা। কিন্তু সুশিক্ষা বলতে আমরা কী বুঝি? সুশিক্ষা বলতে সেই শিক্ষাকেই বোঝায়, যার মধ্যে নীতিবোধ, চারিত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, শিষ্টাচার, ধর্মীয় রীতিনীতি, উদারতা, ধৈর্য, সংযম, সামাজিক মূল্যবোধ, সৌজন্যবোধ, অধ্যবসায়, কর্তব্যবোধ, দেশপ্রেম, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমতাবোধ ইত্যাদি নৈতিক গুণাবলি বিরাজমান। অথচ এখন আমাদের সমাজে সুশিক্ষা নেই বললেই চলে। বড় হচ্ছি, কিন্তু মানুষ হচ্ছি না। মানুষ লিপ্ত হচ্ছে নানা রকম অসামাজিক কর্মকাণ্ডে, যা আমাদের পারিবারিক শিক্ষা, সম্প্রীতি, মূল্যবোধকে সমাজ ও দেশের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

শিশুরা হলো অনুকরণীয়। তাদের ছোটবেলা থেকে যা শিখানো হয় তাই তারা শেখে। ছোট বয়স থেকেই যেভাবে তাদের বড় করা হয়, সেভাবেই তারা বেড়ে ওঠে। এজন্য চাই তাদের সুশিক্ষা। সুশিক্ষার কথা বললে প্রথমেই আসে ধর্মীয় অনুশাসনের কথা। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় রীতিনীতি শেখাতে হবে। নিজ নিজ ধর্মের রীতিনীতি পালন করা শেখাতে হবে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি শিশুদের ছোটবেলা থেকেই মূল্যবোধ সম্পর্কে অবগত করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে, সামাজিক মূল্যবোধ কী, কীভাবে নিজের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। শিশুকে ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা, শিষ্টাচার, সহানুভূতিশীল, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যবোধ, দায়িত্বশীল, দেশপ্রেম, অধ্যবসায়ী, নান্দনিক সৃষ্টিশীলতা, কল্যাণবোধ, পারস্পরিক মমত্ববোধ, গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধা, বাবা-মাসহ পরিবারের সব সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসাসহ নৈতিক গুণাবলির শিক্ষা দিতে হবে। তাদের শেখাতে হবে ভালো-মন্দের মধ্যে পার্থক্য, ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য। শেখাতে হবে যে কোনটা তাদের জন্য কল্যাণের আর কোনটা অকল্যাণের। কোন পথে গেলে তাদের ভালো হবে আর কোন পথে গেলে খারাপ হবে। কোনো অন্যায় কাজ যাতে না করে এবং অন্যায়কে যাতে সমর্থন না করে, সেই শিক্ষা দিতে হবে।

বাবা-মা হিসেবে সন্তানকে শুধু স্কুল-কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করিয়ে নামমাত্র সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত করে তুললে হবে না। সন্তান যদি মানুষের মতো মানুষ না হতে পারে, তাহলে কী লাভ নামেমাত্র সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত মানুষ করার। শিক্ষিত হওয়ার আগে মানুষ হতে হবে। মানুষ না হলে শত শত ডিগ্রি সার্টিফিকেট একসময় গিয়ে ডাস্টবিনে পতিত হয়। যে সার্টিফিকেট, ডিগ্রি পরিবারের সদস্যদের নিজের বাবা-মাকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয় না; সমাজ, দেশ জাতির জন্য কোনো কাজ করার শিক্ষা দেয় না, সে সার্টিফিকেট অর্জন করিয়ে কী লাভ বাবা-মা হিসেবে? তাই সন্তানকে সবার আগে মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। সন্তানের সুশিক্ষার মাধ্যমে  দেশ পাবে একটি সুশিক্ষিত জাতি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।