ডিজিটালাইজেশনে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়

ডিজিটালাইজেশনে বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে কিন্তু ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি যথেস্ট নয়। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে নেপাল ও পাকিস্তানের তুলনায় ভালো করলেও ভুটান ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এখানে মোবাইল ডাটা ব্যবহারের খরচ ভারতের তুলনায় সাত গুণ বেশি। ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের খরচ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। মোবাইল ইন্টারনেট স্পিডের এক র্যাংকিংয়ে ১৩৯টি দেশের মধ্যে ১৩৫তব অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ফ্রিডরিচ-এবার্ট-স্টিফটং (এফইএস) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংলাপে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়। ‘ট্রেড ইন সার্ভিসেস ইন দ্য ডিজিটাল এজ’ শিরোনামে এই সংলাপে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেডের গবেষক কামরুজ্জামান। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, ইআইএফের নির্বাহী পরিচালক ড. রত্নাকর অধিকারি, সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, বেসিসের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবীর প্রমুখ।

মূল উপস্থাপনায় বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারে তৃতীয় সর্বোচ্চ খরচের দেশ বাংলাদেশ। এক জরিপের তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। জরিপের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশের পুরুষের তুলনায় অর্ধেক নারী ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। পুরুষের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম নারী মোবাইল ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১০ থেকে ৩০ হাজার আইটি স্টুডেন্ট স্নাতক পাশ করে বের হচ্ছে। অথচ গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্সে ১৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৬তম। তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই খাতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে মাত্র আড়াই শতাংশ ব্যাংকের সুবিধা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পেরেছে। বাকিরা নিজেদের উদ্যোগে অর্থায়ন করছে। জাতীয়ভাবে যে আইসিটি পলিসি নেওয়া হয়েছে সেখানে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, ব্যবহার এবং দক্ষতার বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। সংলাপে আইসিটি পলিসি সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষানীতিও সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।