জয়পুরহাটে চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

করোনার সংক্রমণের এই সময়ে ব্যাবসায়িকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকায় আসন্ন ঈদুল আজহায় পশুর চামড়া কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জয়পুহাটের ক্ষুদ্র ও মাঝারি চামড়া ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, বকেয়া টাকা পাওয়ার আশায় প্রতি বছরই ধার-দেনা করে চামড়া কিনে থাকেন জয়পুরহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বারবার আশ্বাস দিয়েও নানা অজুহাতে বকেয়া টাকা পরিশোধ করেন না ট্যানারি মালিকরা। এতে লোকসানের পাশাপাশি ঋণের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা। এছাড়া করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণেও ধস নেমেছে চামড়া ব্যবসায়। ফলে তহবিল হারিয়ে মহাদুশ্চিন্তায় পড়েছে জেলার ছোট-বড় চামড়া ব্যবসায়ীরা। সে কারণে কোরবানির চামড়া কিনে ক্রমাগত লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে এবার ঈদের আগেই ঋণ সুবিধার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন জয়পুরহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা। লবণ ও শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় বাজার মূল্যে চামড়া কেনার পর মহাজনদের কাছে দামও পাচ্ছেন না তারা। চামড়া শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা সময়মতো মজুরির টাকা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা। একদিকে করোনা, অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের অসহযোগিতায় চরম বিপাকে পড়া চামড়া ব্যবসায়ীদের দুর্দিন লাঘবে সরকারি সহযোগিতার দাবি জানালেন জয়পুরহাট জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি শামিম আহমেদ। স্থানীয়ভাবে চামড়া কেনা সম্ভব না হলে ভারতে পাচার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করার পাশাপাশি চামড়া শিল্প হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। করোনার এই দুঃসময়ে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া আদায়সহ ঋণ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার এমন প্রত্যাশা স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের। জয়পুরহাটের সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত হোসেনকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘চামড়া কেনা ও বকেয়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখব।’