মিরসরাইয়ের বিভিন্ন আমবাগানে দেশি জাতের পাশাপাশি চাষ হচ্ছে বিভিন্ন বিদেশি জাত। উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমবাগানও বাড়ছে। এ বছর মিরসরাইয়ে প্রায় ১৬০ হেক্টর জমিতে ৯০টি বাগানে আম চাষ হয়েছে। বাগানগুলোতে চলতি বছর ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন আম উত্পাদিত হয়েছে।
জোহরা এগ্রো ফার্মস অ্যান্ড নার্সারির স্বত্বাধিকারী মো. ওমর শরীফ বলেন, “আমি দুই বছর আগে আমার বাগানে ১০০টি জাপানি জাতের ‘সূর্যডিমের’ চারা লাগিয়েছি। এ বছর বেশ কিছু গাছে ফলন হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর আরো বেশি ফলন হবে। এছাড়াও বিদেশি জাতের আমগাছ রয়েছে। এ বছর প্রায় ৬ লাখ টাকার আম বিক্রি করতে পারব।” উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকায় ছয় একর জায়গায় আমবাগান করেছেন মো. ফিরোজ খান। ইউনাইটেড এগ্রো নামের এই বাগানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করা হয়েছে। ফিরোজ খান বলেন, ‘প্রথমে শখের বসে আমের বাগান করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে চিন্তা করছি। আমার বাগানে সূর্যডিম/মিয়াজাকি, ক্যাপ্টেন, কিউজাই, ব্যানানা ম্যাংগো, কাঁচামিষ্টি, আম্রপালি, বারি ৪, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি আম রয়েছে। আমি তিন বছর আগে সূর্যডিম জাতের ৫০টি চারা লাগিয়েছি। এবার প্রায় ৩০ কেজি সূর্যডিম আম ফলন হয়েছে। ক্রমান্বয়ে ফলন বাড়বে।’ সাহেরখালীর মান্নান এগ্রোর মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘স্নাতক পাশ করার পর চাকরির জন্য না ঘুরে কয়েক বছর আগে বিভিন্ন ফলদ বাগান করেছি। তবে সবচেয়ে বেশি আমের চারা লাগিয়েছি। আমার বাগানে দেশি জাতের বিভিন্ন আমের পাশাপাশি বিদেশি সূর্যডিম ও ব্যানানা ম্যাংগো রয়েছে। আমার দেখাদেখি সাহেরখালীতে অনেক আমের বাগান করেছে। আমি সবাইকে বাগান করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’
উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পশ্চিম অলিনগর এলাকার হিলসডেল মাল্টিফার্মের মালিক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মঈন উদ্দিন, তার বাগানে আম্রপালি, ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে। এবারও এই বাগান থেকে কয়েক লাখ টাকার আম বিক্রি হয়েছে। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম জানান, উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় ১৬০ হেক্টর জমিতে ছোট বড় ৮০-৯০টি আমবাগান রয়েছে। যেখানে প্রায় ১০৮০ মেট্রিক টন আম উত্পন্ন হয়েছে। পাইকারি ৫০ টাকা করে বিক্রি করা হলেও যার বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা বলেন, দেশি জাতের আমের পাশাপাশি মিরসরাইয়ে বিদেশি জাতের আমের বাগানও বাড়ছে। বর্তমানে সবচেয়ে দামি ও পুষ্টিগুণে ভরা মিয়াজাকি আমও এখানে রয়েছে। পাহাড়ি ও সমতল মিলিয়ে এই এলাকা আম চাষের জন্য উপযোগী।