বর্ষা মৌসুমের আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে পানিতে টইটম্বুর হয়ে থাকে চলনবিল; কিন্তু এ বছর ভরা বর্ষায়ও দেশের মিঠা পানির সবচেয়ে বড় জলাভূমি চলনবিলে পানি কম। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন বিলে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহকারী জেলেরা। তারা জানায়, প্রতি বর্ষায় যমুনা নদীর বাঘাবাড়ির হুরাসাগর হয়ে বড়াল ও গুমানি নদীপথে বন্যার পানির সঙ্গে পুঁটি, টেংরা, পাঁতাসি, রায়েক, চেলা, মোয়া, চাটা খইলসা, বাড়ি খইলসা, বাইলা, গুচি, টাকি, কই, জিয়াল, মাগুর, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ হরেক মাছ বিলে ঢুকে পড়ে। এসব মাছ ধরে সংসার চলে তাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল ও ভেটুয়া গ্রামের বিশেষ করে বিলের নিচু এলাকাতে হাঁটু পানি। আর বিলের উঁচু এলাকার কোথাও বন্যার পানি নেই। ফলে মাছও ধরা পড়ছে কম। কুন্দইল গ্রামের মহারোম ও হামীম নামে দুই জেলে বলেন, আষাঢ় মাসের মধ্যের দিকে বিলে পানি আসতে শুরু করে। তখন পানি কোমর অবদি হয়ে যায়। আবার কয়েক দিন পর থেকেই পানি কমতে শুরু করে। তারা আরো বলেন, দুই মাস আগেই নৌকা-জাল কিনেছেন মাছ ধরার জন্য; কিন্তু বিলে পানি না থাকায় অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছেন।
সোমবার সকালে তাড়াশ সদরের প্রসিদ্ধ মাছ বাজারে দেখা যায়, বেশির ভাগ মাছ বিক্রেতার চাটাই খালি পড়ে আছে। হাতে গোনা ১০-১২ জন ব্যবসায়ী সামান্য কিছু করে মাছ বিক্রি করছেন। তাড়াশ বাজারের মাছের আড়তদার শহিদুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে চলনবিলের জেলেরা আড়তে প্রচুর মাছ নিয়ে আসতেন; কিন্তু এবারে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। বিষয়টি স্বীকার করে তাড়াশ উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, দুর্ভোগ লাঘবে সমতলের (চলনবিল) জেলেদেরকে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।