করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঈদের পরপরই কঠোর লকডাউন শুরু হবে বাংলাদেশে। কঠোর বিধিনিষেধ বলবত্ থাকবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। যার ফলে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে চিন্তার পারদ ক্রমেই ওপরে উঠছে। বর্তমানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফররত অস্ট্রেলিয়া দল বাংলাদেশে আসবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই ক্রিকেটাঙ্গনে।
তবে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানেই আছে বিসিবি। লকডাউন চলাকালেও সিরিজ আয়োজনে আশাবাদী দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থা। কারণ লকডাউন হলেও সিরিজ আয়োজনে সরকারের সবুজ সংকেত পেয়েছে বিসিবি। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যস্ত সংস্থাটি।
বিসিবি সূত্র জানা গেছে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এখনো নেতিবাচক কিছু বলেনি। সিরিজ হবে এমন চিন্তা নিয়েই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। তারপরই বাংলাদেশে পাঁচটি টি-২০ খেলতে আসবে অ্যারন ফিঞ্চের দল। বিসিবির কাছ থেকে পাওয়া পরিকল্পনাসহ সবকিছু সরকারকেও জানাতে হচ্ছে তাদের। সরকারের পক্ষ থেকে বাধা না এলে সিরিজ খেলতে রাজি তারা। সবকিছু ঠিকভাবে চললে আগামী ২৯ জুলাই ক্যারিবিয়ান থেকে ঢাকা পৌঁছানোর কথা অস্ট্রেলিয়া দলের।
বিসিবিও নিজেদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সিএকে বিসিবি বোঝাতে চেষ্টা করছে যে, লকডাউন হলেও তাদের সমস্যা নেই। কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যবস্থাপনায় সিরিজ খেলে ফিরে যাবে অস্ট্রেলিয়া দল। মানা হবে কঠোর সুরক্ষা বলয়। তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকবে না বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে।
সিরিজের সুরক্ষা বলয় ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত সবকিছু ইতিবাচক রয়েছে। আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাদের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। তারা মতামত দিচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে।’
জানা গেছে, সিএর দেওয়া সব শর্তই পূরণ করছে বিসিবি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেলে আসবে অস্ট্রেলিয়া দল। তাদের ইমিগ্রেশন আলাদাভাবে হবে। বিমানবন্দরে পাসপোর্ট রেখে দিলেও পরে জীবাণুমুক্ত করে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে।
সম্পূর্ণ আলাদা একটি হোটেলে অবস্থান করবে দুই দল। যেখানে বাইরের অতিথি থাকবে না। বিসিবি সূত্র জানায়, হোটেল সোনারগাঁয়ে অন্তত ব্যবস্থা হচ্ছে না। অন্য হোটেলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং পুরো ব্যবস্থাপনা সিএকে জানাচ্ছে বিসিবি। তাদের সম্মতিতে ঠিক হবে হোটেল। তৈরি রাখা হচ্ছে একটি হাসপাতালও।
ঢাকায় নেমে তিন দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবে অস্ট্রেলিয়া দল। যেখানে দুই বার করোনা পরীক্ষা হবে তাদের। পরে অনুশীলনে নামবে সফরকারীরা। ২ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে মিরপুর স্টেডিয়ামে পাঁচটি ম্যাচ খেলে ফিরে যাবে ফিঞ্চ বাহিনী।
গ্রাউন্ডসম্যান থেকে শুরু করে সিরিজে নিয়োজিত সবাই ১০ দিন আগে থেকেই কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। তাই বাংলাদেশ দলও জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে সোজা হোটেলে উঠবে। দেশে ফিরলেও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না টাইগাররা। মিরপুর স্টেডিয়ামেও তৈরি করা হবে সুরক্ষা বলয়। যা কঠোরভাবে মানা হবে।
অপেক্ষা এখন অস্ট্রেলিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।