গরম আর যানজটে নাকাল ঘরমুখী মানুষ

পবিত্র ঈদুল আজহা পরিবারের সঙ্গে উদ্যাপন করতে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে দীর্ঘ যানজট দেখা গেছে। এছাড়া প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজট ও ভ্যাপসা গরমে নাকাল ঘরমুখো মানুষ। ডিএমপি ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাইফুল মালিক জানান, ঈদযাত্রা শেষ পর্যায়ে আছে। মানুষ এখন দল বেঁধে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে ফিরছে। এই সময় সামান্য যানজট হবে—এটাই স্বাভাবিক।

এছাড়া সড়ক-মহাসড়ক ও ফেরিঘাটে ঘরমুখী মানুষ ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ। গন্তব্যে পৌঁছাতে গাদাগাদি করে গণপরিবহনে ওঠায় উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। যানজটে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগছে কয়েক গুণ বেশি।

সকাল থেকে ঢাকা টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অপেক্ষমাণ ঘরমুখো মানুষের চাপ ছিল। বাস, মিনিবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা। দুপুরে পোশাক কারখানা ছুটি হলে মানুষের চাপ আরো বেড়ে যায়। এছাড়া পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের লম্বা সারি দেখা গেছে মহাসড়কে। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটার এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

যাত্রীর চাপে ফেরি ও লঞ্চঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেককে। এদিকে, তীব্র গরম ও যানজটে ট্রাক আটকে থাকায় সুস্থভাবে কোরবানির পশু পরিবহন করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।

ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে ফেরিঘাটেও।  মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাসের তুলনায় পশু ও পণ্যবাহী ট্রাকের চাপ বেশি। ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হওয়ায় কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।

লঞ্চ :লঞ্চে গাদাগাদি করেই বাড়ি ফিরছেন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। ৬০ ভাগ বেশি ভাড়া আদায় করা হলেও লঞ্চের ডেকে দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী বসানোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে লঞ্চ। মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে সুরক্ষা বিধি পুরোপুরি উপেক্ষিত। সরকারি নির্দেশনা মানছে না কোনো লঞ্চ। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার কথা থাকলেও ভেতরে লোকজন বসছে গাদাগাদি করে। ৬০ শতাংশেরও বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

ট্রেন :সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। নিয়ম মেনে যথাসময়ে গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেনগুলো। তবে গতকাল নিয়ম না মেনে টিকিট ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর অভিযোগ রয়েছে ট্রেনগুলোর বিরুদ্ধে। তবে নিয়ম মেনে যথাসময়ে গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেনগুলো।

অন্যান্য বছর ঈদের আগের ঠিক এই সময়ে যাত্রীদের ভিড় ও হুড়োহুড়ি থাকে স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফরমে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়ি ফেরার আগের চিরচেনা সেই চিত্র এখন আর নেই কমলাপুরে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে অর্ধেক আসন খালি রেখে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কম। তাছাড়া অনলাইনে টিকিট বিক্রি হওয়ায় বিনা টিকিটে কিংবা স্ট্যান্ডিং টিকিটে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারায় স্টেশন অনেকটা ফাঁকা। প্রতিটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে বলেও জানান স্টেশন ম্যানেজার।

রাজধানীর সড়ক অনেকটাই ফাঁকা :ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে বাড়ি যাচ্ছে। ফলে রাজধানীর রাস্তাগুলোতে গাড়ির চাপ কম। গতকাল সোমবার রাজধানীতে চিরচেনা যানজটের সৃষ্টি হয়নি। অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই সড়কে যানবাহনের চলাচল করতে দেখা গেছে। গতকাল শেষ কর্মদিবস হওয়ায় রাজধানীর কিছু পয়েন্টে ছোট ছোট যানজট দেখা গেছে। তবে রাজধানীর থেকে বের হওয়ার পয়েন্টগুলোতে রয়েছে গাড়ির দীর্ঘ জট।