রাজধানীর পশুর হাট শুরুর তৃতীয় দিনেও পশুর দাম বেশির অভিযোগ করেছে ক্রেতারা। শেষ দিনের অপেক্ষায় ব্যাপারীরা দাম ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে ব্যাপারীরা বলছেন, এবার পশুতে খরচ বেশি পড়ায় দাম বাড়তি রাখতে হচ্ছে তাদের। নয়তো তাদেরও লোকসান গুনতে হবে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন হাটে ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সোমবার ঈদের দুই দিন আগে বিক্রি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। জমজমাট হচ্ছে পশুরহাট। গতকাল রাজধানীর কাওলার শিয়ালডাঙ্গা হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের মধ্যে আর এক দিন বাকি থাকায় যেসব ক্রেতা আসছেন, তারা অধিকাংশই পশু কিনে ফেরার চেষ্টা করছেন। বাজেটের মধ্যে হলে তারা পশু কিনে ঘরে ফিরছেন। তাই সকাল থেকে বিক্রি বেড়েছে। তবে দাম বাড়তির অভিযোগই বেশির ভাগ শোনা গেছে।
কুষ্টিয়া থেকে শামীম হোসেন কাওলার শিয়ালডাঙ্গা হাটে ২০টি গরু এনেছেন বিক্রির জন্য। এর মধ্যে তিনি এর মধ্যে আটটি গরু বিক্রি করে ফেলেছেন। আর ১২টি গরু বিক্রি করলেই তিনি এলাকায় ফিরে যাবেন বলে জানান। তবে ক্রেতা দাম কম বলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাদেরও অনেক খরচ হয়েছে বলে তিনি জানান। যার কারণে একটু চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন. গত দুই দিন একদমই বিক্রি ছিল না। আজকেই বিক্রি করছি শুধু।
এদিকে গরুর দাম বেশি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে দাম কমার অপেক্ষায় অনেক ক্রেতা। হাট থেকে গরু না কিনে ফিরছেন এমন একজন ক্রেতা বলেন, তিন দিনই হাটে এলাম। দাম ধীরে ধীরে কমছে। যত গরু এসেছে, সেই তুলনায় ক্রেতা কম। শেষ দিন কিনব। এ হাটে পশুর দাম কমিয়ে বিক্রির জন্য ব্যাপারীদের সঙ্গে কথাও বলছেন হাট ইজারাদাররা। তারা চাচ্ছেন, বিক্রি যেন আরো বাড়ে। আফতাবনগর হাটের ইজারাদার মাহবুবুর রহমান শিমুল বলেন, এ বছর গরুর দাম বেশি হওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। এ জন্য এখন পর্যন্ত বিক্রির পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। তিনি বলেন, আমরা ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলেছি, যেন তারা করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় কম মুনাফায় গরু বিক্রি করেন। তাতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হবেন। শিমুল জানান, আফতাবনগর হাটে এ বছর পশু আমদানি হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার। গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে আনুমানিক ৬ থেকে ৭ হাজার। এখনো কিছু পশু আসছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। হাটের ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীর পশুর বাজার চড়া নিয়ে শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় সব হাটে পশু আমদানির সংখ্যা গত বছরগুলো থেকে অনেক কম। করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতা কম থাকায় গরু বিক্রি হচ্ছে না এখন।
এদিকে কিছু ব্যাপারী শঙ্কা জানিয়ে বলেছেন, করোনার কারণে ক্রেতার উপস্থিতি সরবরাহের তুলনায় কম হলে শেষ দিন দাম নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লোকসানের শঙ্কা রয়েছে তাদের। আফতাবনগর হাটে যশোর থেকে ১১টি বড় গরু নিয়ে এসেছেন মোজাম্মেল হোসেন। তিনি জানান, তার গরুগুলো বড়। এর মধ্যে আটটি গরুর দাম ২ লাখের বেশি। এ কারণে বিক্রি হচ্ছে না। মোজাম্মেল বলেন, মানুষের হাতে টাকা নেই। এ জন্য বিক্রি হচ্ছে না। এ হাটে ৮-১০ বছর থেকে আসছি, এমন খারাপ পরিস্থিতি আগে দেখিনি। সবাই ১ লাখ টাকার নিচে গরু খুঁজছে।
আরেক ক্রেতা জানান, মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। আর তাই দামও বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। গাবতলী হাটকে জরিমানা : এদিকে কোভিড-১৯-এর ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে জমে ওঠা রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করায় হাট কর্তৃপক্ষকে এই জারিমানা করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। গতকাল সোমবার হাটে গিয়ে মেয়র স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের দৃশ্য দেখে এই জরিমানা করেন। এ সময় যারা মাস্ক ছাড়া হাটে প্রবেশ করে তাদের মধ্যে মাস্কও বিতরণ করেন তিনি। মাস্কবিহীন অনেক পশু ব্যবসায়ীকে তিনি মাস্ক পরিয়ে দেন।