‘আমার একমাত্র মাইয়া সবিতা রানী দাস (২৫)। টেহার লাইগা চিকিত্সা করাইতে পারি না। কয়েকটা ব্যথার টেবলেট খাওয়াইয়া ঘরের মধ্যে শুয়াইয়া রাখছি। কোনো কিছু খাইতে পারে না। সারাক্ষণ মাথা ব্যথা, কোমড় আর হাঁটু ব্যথায় কান্দে। আমি গরিব মানুষ, মাইয়াডার চিকিত্সা করামু কেমনে? আমার মাইয়াডা বাঁইচাও মরার মতোই পইড়া আছে।’—কথাগুলো বলছিলেন রূপগঞ্জের সেজান জুস কারখানার আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনের তিন তলা থেকে লাফিয়ে বেঁচে ফেরা সবিতার মা সফলা রানী সরকার। কথা বলার সময় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। চোখে-মুখে ভাসছিল আফসোস আর হতাশার প্রতিচ্ছবি। সবিতা রানী সরকার সিলেটের সুরমা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সারদা সরকারের মেয়ে।
সবিতার মা সফলা রানী বলেন, প্রায় আট বছর আগে সবিতাকে সিলেটের সুরমা এলাকার নয়ন দাসের সঙ্গে বিয়ে দেন। সবিতার পরপর দুটি সন্তান জন্ম নিলেও অসুস্থতার কারণে মারা যায়। পরে তৃতীয় বারের মতো সন্তানের জন্ম দেন সবিতা রানী। ততদিনে গোপনে অন্যত্র সংসার বাঁধে স্বামী নয়ন দাস। স্বামীর অবর্তমানে সংসারে নেমে আসে চরম দারিদ্র্য।
পরিবারের দারিদ্র্য দূর করতে গত পাঁচ বছর ধরে রোলিং মিল, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেন সবিতা। প্রায় ছয় মাস আগে কাজ নেন রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারখানায়। অন্যান্য দিনের মতোই গত ৮ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যান সবিতা। বিকাল ৫টার দিকে কর্মস্থলে ৬তলা ভবনের ৩য় তলায় আগুন লাগে। প্রাণে বাঁচতে ছোটাছুটি করে মেইন গেটে যান সবিতা। গেট তালাবদ্ধ দেখে পুনরায় ৩য় তলায় উঠে প্রাণে বাঁচতে ৩য় তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন সবিতাসহ ২৫-৩০ জন। নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন সবিতা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে সবিতাকে পরীক্ষানিরীক্ষার পর তার মাথা, কোমড়, হাঁটু ও গোড়ালিতে সমস্যা হয়েছে এবং তার চিকিত্সার জন্য মোটা অঙ্কের টাকার প্রয়োজন বলে জানান চিকিত্সকরা।
সবিতার মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি দিন খাই। প্রথম কয়েক দিন টাকার অভাবে সবিতার চিকিত্সা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে সরকারের দেওয়া ৫০ হাজার টাকা পেয়ে পুনরায় চলছে তার চিকিত্সা। তবে এই ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মেয়ের সুচিকিত্সা হবে কি না, সে ব্যাপারে সন্দিহান সফলা রানী সরকার।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, আগুনের ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে আমরা সব সময় যোগাযোগ রাখছি। কোনো প্রকার সমস্যা হলেই সমাধান করা হবে। তাদের অনুদান প্রদান অব্যাহত আছে।