পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বহীনতা

নূর আহমদ

আমি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৯ নম্বর উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাগুরী গ্রামের অধিবাসী। আমাদের একটি জমির (ভিটা) ওপর দিয়ে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি বিদ্যুতের সঞ্চালক লাইন নিয়েছে। আমাদের অনুমতি নেওয়ারও তোয়াক্কা করা হয়নি। এখন আমরা লাইনটি সরানোর কথা বললে বলা হচ্ছে, এর জন্য প্রথমেই ১৭২৫ টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর বিদ্যুত্ সঞ্চালক লাইনটি স্থানান্তর করতে যত খরচ লাগে, সব আমাদেরই বহন করতে হবে। এর জন্য তিনটি বৈদ্যুতিক খুঁটি লাগবে, যার প্রতিটির জন্য আমাদের ত্রিশ হাজার টাকা করে অগ্রিম জমা দিতে হবে। বৈদ্যুতিক তারসহ আনুষঙ্গিক যত খরচ সব বহন করতে হবে আমাদেরই।

প্রশ্ন হচ্ছে, সঞ্চালক লাইনটি নিয়েছে ওরা; এখন কেন আমাদের খরচেই সরাতে হবে? বিদ্যুতের লাইন রাস্তার পাশ দিয়ে না নিয়ে মানুষের জমি বা বাড়ির ওপর দিয়ে নেওয়া কতোটা যুক্তিযুক্ত?

একতলা মার্কেটের ওপর দিয়েও বৈদ্যুতিক লাইন নেওয়া হয়। এজন্য সবসময় দুর্ঘটনার ভয়ে থাকতে হয়। দোতলা-তিনতলাও করা যায় না নিজেদের প্রয়োজনে। লাইন সরাতে হলে প্রচুর টাকা দিতে হয় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিকে। এভাবে মানুষকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া কি অনিয়ম নয়? এর বিরুদ্ধে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

মানুষের জমির ওপর দিয়ে এভাবে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যাওয়ার কারণে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিগুলোর কাছে কি এসব মৃত্যুর খবর পৌঁছে না?

আরেকটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি শুরু থেকেই সারা দেশে বিদ্যুত্ সঞ্চালক লাইনে কভার বিহীন তার ব্যবহার করে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য মানুষ এই কভারবিহীন তারে জড়িয়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করছে। অনেকে মারা না গেলেও সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। এই তারকে সাক্ষাত্ ‘মৃত্যুদূত’ বলা ছাড়া উপায় নেই। জানি না, পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির এই দায়িত্বহীন আচরণ পরিবর্তনের জন্য আর কত যুগ আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে!

লক্ষ্মীপুর