নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় উব্ধাখালি নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। একের পর এক বিলীন হচ্ছে এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি। ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। তারা জানায়, গত দুই বছরে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে সদর উপজেলার কলমাকান্দা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, রঘুরামপুর, মনতলা, বাসাউড়া, গুজাকুনিয়া এবং হরিণধরা গ্রামের দুই শতাধিক বাড়ি। এছাড়া উপজেলার পাঁচগাও, লেংগুরা, বড়খাপন, চারালকোনাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামীণ বাজার ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চানপুর, ধিতপুর, পাঁচকাঠা, পালপাড়া গ্রামীণ সড়কও।
মনতলা গ্রামের কামাল পাশা বলেন, উব্ধাখালি নদীর ভাঙনে প্রতিবছর এই এলাকার নদী তীরবর্তী বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। লোকজন তাদের বাপদাদার ভিটেমাটি হারাচ্ছে। বাড়িঘর ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি।
কলমাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মৌলা বলেন, প্রতি বছরের বন্যা বা প্লাবনে উব্ধাখালি নদী তীরবর্তী বাড়িঘর নদীর কবলে পতিত হয়। নদীর ভাঙন থেকে বাড়িঘর রক্ষা করতে হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বড় ধরনের প্রকল্প নিতে হবে। ছোটখাট প্রকল্প দিয়ে নদীর ভাঙন রোধ করা যাবে না।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল খালেক তালুকদার বলেন, উব্ধাখালি নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কয়েক বছর আগে কিছু কাজ করেছে। কিন্তু এতে ভাঙন রোধ একেবারে বন্ধ হয়নি। কলমাকান্দার সদরের নদীর এলাকায় সম্পূর্ণ বেড়িবাঁধ দিলে ভাঙন রোধ হবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মানু মজুমদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবেন বলে জানিয়েছেন। নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, উব্ধাখালি নদীর ভাঙন থেকে বাড়িঘর এবং জমিজমা রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।