গরু ফিরিয়ে দিচ্ছেন ঢাকাফেরত ব্যবসায়ীরা

বিপাকে কৃষক

সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা

বিক্রি না হওয়ায় সাঁথিয়ায় কৃষকদের গরু ফিরিয়ে দিচ্ছেন ঢাকাফেরত ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা।

করোনা মহামারিতে বিভিন্ন ব্যবসা বন্ধ থাকা বেকার ব্যবসায়ী ও পাবনার মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ অপেক্ষায় পর শুরু করেন কোরবানির পশুর ব্যবসা। তারা পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় ধারদেনা করে মফস্সল শহর থেকে গরু কিনে লাভের আশায় ঢাকায় যান। কিন্তু ঢাকার হাটগুলোতে এ বছর কোরবানির গরুর চাহিদার তুলনায় বেশি সরবরাহ থাকায় বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া করোনা মহামারিতে দেশে অনলাইনে পশু কেনাবেচা হওয়ায় কিছুটা ভাটা পড়ে সরাসরি হাটে পশু বিক্রিতে। এতে কম দামে ও সংখ্যায় কম পশু বিক্রি হওয়ায় আর্থিক লোকসানে পড়েন মফস্সলের পশু ব্যবসায়ীরা। উপজেলার আত্রাইশুকা গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে গরু ফেরত নেন তিন কৃষক। তাদের গরু বাকিতে কেনেন ঐ গ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন। গরু ফেরত নেওয়া কৃষক রহমত জানান, তিনি একটি ষাঁড় বাকিতে বিক্রি করেন। ব্যাপারী ঢাকায় সেটি বিক্রি করতে না পারায় ফেরত দিয়েছেন। আর বাধ্য হয়ে তাকে বিক্রি করা গরু ফেরত নিতে হলো। এমন অবস্থার সম্মুখীন হয়েছেন উপজেলার অধিকাংশ কৃষক। বাকিতে গরু বিক্রিই যেন তাদের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন বলেন, ‘৯টি গরু নিয়ে লাভের আশায় ঢাকায় গিয়েছিলাম। দাম কম হওয়ায় তা আবার ফেরত নিয়ে আসি। এতে আমার প্রায় ১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।’ উপজেলার বিষ্ণুবাড়িয়া গ্রামের মানিক সর্দার বলেন, ‘ব্যাপারীদের সঙ্গে আমার একটি ষাঁড় ঢাকায় নিয়ে যাই। এলাকায় ষাঁড়টি ৮৫ হাজার টাকা দাম হলেও ঢাকায় তার দাম ৬০ হাজারের বেশি ওঠে না। পরে বৃষ্টির মধ্যে বসতি এলাকায় ফেরি করে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হই।’ এরকম উপজেলার অধিকাংশ গরু ব্যবসায়ী ও কৃষক বিপাকে পড়েছেন। তারা করোনাকালে কীভাবে ধারদেনা পরিশোধ করে সংসার পরিচালনা করবেন তা নিয়ে দুচিন্তায় আছেন।

এদিকে করোনাকালীন বিধিনিষেধের মধ্যেও উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিপুলসংখ্যক গরু উঠেছে। হাটগুলোতে ভালো দামে স্থানীয় কৃষকরা পশু বিক্রি করেছেন। কিন্তু ঢাকাগামী ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান গরু ব্যবসায়ী টুকু। তিনি বলেন, ‘লোকসানের পাশাপাশি আমরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বৃষ্টি, রোদ ও দুচিন্তায় ভেঙে পড়েছি।’