পাটের দরপতনে চাষি বিপাকে

 

লকডাউনে ক্রেতা নেই

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক জাহেদুল আমিন বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হচ্ছে। তবে দাম কমে গেছে। দামের ব্যাপারে তাদের কিছু করণীয় নেই

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

পশ্চিমের ছয় জেলায় হাটবাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।  আমদানি বৃদ্ধি ও ক্রেতার অভাবে দরপতন হয়েছে। এতে চাষি হতাশ হয়েছেন।  এবার  এ অঞ্চলে পাট চাষ বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বীজ বপনের পর প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় চাষ ব্যাহত হয়। চাষি সেচ দিয়ে পাটখেত রক্ষা করেন। পরে বৃষ্টি হলে পাটগাছ তরতরিয়ে বেড়ে ওঠে। বর্তমানে পুরোদমে পাট কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চাষি সমস্যায় পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ২৬ হাজার ৪২৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায়  ২২ হাজার ৮৬০ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৩৫ হাজার ৮২০ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ৪০ হাজার ৯৬৬ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০ হাজার ৫২৭ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ২০ হাজার ৪০ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। কয়েক বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা পাট চাষে ঝুঁকেছেন। গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কম হয়। গত বছর প্রথম দিকে প্রতি মণ পাট ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গত জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও মাগুরার লাঙ্গলবাঁধ মোকামে সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়। তবে এ দাম পায় পাটের মজুতদাররা।

মাসখানেক আগে নতুন পাট বাজারে উঠলে মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলায় ৩ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়। পরে দাম আরো চড়ে প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। বর্তমানে কমে গেছে। প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মাগুরার লাঙ্গলবাঁধ হাটে প্রতি মণ পাট ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়। মঙ্গলবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা হাটে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের পাটচাষি মো. আশরাফুল আলম জানান,  এবার সাড়ে ৪ বিঘাতে পাট চাষ করেছেন। পাট চাষে খরচ বেড়ে গেছে। এক বিঘাতে পাট চাষে খরচ হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ২ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি করলে লোকসান হচ্ছে। একই উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের চাষি বাচ্চু মোল্লা জানান, গত বছর ১১ বিঘাতে পাট চাষ করেছিলেন। গত বছর ফলন কম হওয়ায় লোকসান হয়েছে। এবার সাড়ে ৫ বিঘাতে চাষ করেছেন। দরপতনে তার খরচ উঠবে না বলে জানান। ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাট ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান,  লকডাউনের কারনে হাটবাজার বসছে না। পাটের দাম পড়ে গেছে। ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাগুরার উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, মাগুরায় হাটবাজারে নতুন পাট উঠছে। প্রথম ওঠা পাট প্রতি মণ সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দরে কেনাবেচা হয়েছে। বর্তমানে দাম কমে ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক জাহেদুল আমিন বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হচ্ছে। তবে দাম কমে গেছে। দামের ব্যাপারে তাদের কিছু করণীয় নেই।