নিজের রকেট জাহাজ নিউ শেপার্ডে করে মহাকাশে ছোট-খাটো ভ্রমণ করে ফিরেছেন ধনকুবের জেফ বেজোস। তার এই রকেট জাহাজটিতে এবারই প্রথম কোনো ক্রু ফ্লাইট পরিচালনা করা হলো। এ যাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন তার ভাই মার্ক বেজোস, মহাকাশে পাড়ি দেওয়ার দৌঁড়ে একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত ৮২ বছর বয়সি ওয়ালি ফাঙ্ক এবং ১৮ বছর বয়সি একজন শিক্ষার্থী। খবর বিবিসির
বেজোসরা এমন একটি ক্যাপসুলে করে এই ভ্রমণ করেছেন যার জানালাগুলো বড় থাকায় পৃথিবীর চমকপ্রদ দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পেয়েছেন। পরিভ্রমণ শেষে মাত্র ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মাথায় ক্যাপসুলটি পৃথিবীতে ফিরে আসে। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জেফ বেজোস আনন্দে চিত্কার করে বলেন, ‘সেরা দিন!’ বেজোসের সংস্থা ব্লু অরিজিন এই নিউ শেপার্ড নামে রকেটটি তৈরি করেছে। এটি মহাকাশ পর্যটনের জন্য ক্রমবর্ধমান বাজারের চাহিদা পূরণের জন্যই নকশা করা হয়েছে। আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস এবং তার ‘বিলিয়নিয়ার স্পেস রেস’ এর অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা অবশ্য এর জন্য কিছুটা সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। অনেকে এটাকে কিছু অতি ধনীদের আনন্দ ভ্রমণ হিসেবে দেখছেন। সমালোচকরা বলছেন, এই অর্থ কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি বা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যয় করা যেতে পারে। তবে বেজোস জোর দিয়ে বলেছেন যে, তার একটি পরিবেশগত পরিকল্পনাও রয়েছে।
বেজোসের চিন্তা-ভাবনা কী?
আমেরিকান টেলিভিশন চ্যানেল এমএসএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বেজোস বলেন, সমস্ত ভারী শিল্প, দূষণ ছড়ায় এমন শিল্পগুলোকে মহাকাশে স্থানান্তরিত করা উচিত। পৃথিবীকে অন্য গ্রহগুলোর মধ্যে সুন্দর রত্নের মতো করে গড়ে তোলা উচিত। তিনি বলেন, এটি অর্জনে দশকের পর দশক সময় লাগবে, তবে তা শুরু করতে হবে এবং বড় কিছুর শুরু ছোট ছোট পদক্ষেপেই হয়। বেজোস বলেন, এই উপকক্ষপথে পরিভ্রমণ আমাদের সেই সুযোগটিই করে দিচ্ছে, আমাদের বারবার অনুশীলন করার সুযোগ দিচ্ছে। এই ফ্লাইটে মহাকাশে যাওয়া সবচেয়ে বেশি বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন ফাঙ্ক এবং মহাকাশে যাওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তিও ছিলেন যার নাম অলিভার ডিমেন। টেক্সাসের ভ্যান হর্নের কাছে একটি ব্যক্তিগত উেক্ষপণ সাইট থেকে মহাকাশযানটি ব্রিটিশ সামার টাইম ১৪ টা ১২ তে উড্ডয়ন করে।