কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মানাধীণ ভবনের গাড়ি বারান্দা ধ্বসে শ্রমিক হতাহতের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ফ্যাক্স বার্তা মারফত তাদের বরখাস্তাদেশ পাঠানো হয়।
বরখাস্তকৃতরা হলেন, কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হান্নান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব (এসডি) ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রশিদ।
বরখাস্তকৃত প্রকৌশলীদের স্থলে অন্য জেলার প্রকৌশলীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে যশোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং মাগুরার গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভবনের গাড়ি বারান্দার ছাদ ধ্বসে পড়ে। এ ঘটনায় এক নির্মাণশ্রমিক নিহত ও পাঁচজন আহন হন। ওই দুর্ঘটনার পর মন্ত্রণালয়সহ সকারেরর সংশ্লিষ্ট বিভাগ নড়ে-চড়ে বসে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে মন্ত্রণালয়সহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে পর্যায়ক্রমে ছয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত ওই ছয়টি তদন্ত কমিটির প্রধানসহ সদস্যবৃন্দ সরেজমিন পরিদর্শনে নির্মান কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের চরম অনিয়ম-দুর্নীতির সন্ধান পায়। প্রকল্পটি তত্বাবধানকারী সরকারী প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উদাসীনতা ও গাফিলতির বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে।
এছাড়া প্রকল্প পরিচালক ডাক্তার আশরাফুল হক দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না বলে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তবে কেবল তিন প্রকৌশলীকে শাস্তির আওতায় আনা হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ দুর্ঘটনায় দায়ী অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রভাবশালী ঠিকাদারসহ দায়ী অন্যরা তদন্ত শাস্তি থেকে রেহাই পেতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ গফরগাঁওয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু
কুষ্টিয়া গণপূর্ত বিভাগের বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হান্নান তিন প্রকৌশলীকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু