রয়টার্স
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা লন্ডনে দেশটির দূতাবাসে নতুন একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন এ ‘শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ আগের রাষ্ট্রদূত কেয়াও জোয়ার মিনের স্থলাভিষিক্ত হলেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে অভ্যুত্থান হওয়ার পর কেয়াও জোয়ার মিন সামরিক জান্তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চিকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা পরে জোয়ার মিনকে প্রত্যাহার করে নেয়। জান্তাপন্থিরা এপ্রিল থেকে তাকে দূতাবাসেও ঢুকতে দেয়নি।
শুক্রবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, দূতাবাসে নতুন ‘অন্তর্বর্তীকালীন শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ নিয়োগ দেওয়ার এক্তিয়ার মিয়ানমারের। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকারের সম্মতির প্রয়োজন হয় না। এ মুখপাত্র বলেন, ‘যে দেশে দূতাবাস সে দেশের সম্মতির দরকার পড়ে না।’ শুক্রবার যুক্তরাজ্যও মিয়ানমারে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের মতো অনেক পশ্চিমা দেশ দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন মিয়ানমার অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রজেক্ট (এমএপি) কয়েক দিন আগেও লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসে যাকেই নতুন প্রধান করা হোক না কেন, তাকে মেনে না নিতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এমএপি জানিয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা তাদের লন্ডন দূতাবাসের দায়িত্ব হতুন অং কেয়াওকে দিয়েছে। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন থাকা অং কেয়াও এক সময় ফাইটার পাইলটের দায়িত্বও পালন করেছেন। মিয়ানমারের লন্ডন দূতাবাসের নতুন প্রধান নিয়োগ বিষয়ে অবগত একটি সূত্রও অন্তর্বর্তীকালীন ‘শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে অং কেয়াও নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানালেও এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। আগের রাষ্ট্রদূত কেয়াও জোয়ার মিন এখনো যুক্তরাজ্যে আছেন; তিনিও জান্তা মনোনীত যে কোনো দূতকে স্বীকৃতি না দিতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।