ফুল

কী নামে ডাকি?

 

‘একলা বসে ঘরের কোণে কী ভাবি যে আপন-মনে

সজল হাওয়া যূথীর বনে কী কথা যায় বলে’

রবীন্দ্রনাথের মতো ভেবে আকুল হই সজল হাওয়া সত্যি কি কিছু বলেছেন যুথীর কানে কানে! কালিদাস মেঘদূত কাব্যে মেঘকে বলেছেন তিনি যেন তরুণ যুথিকার কোরকে জলকণা ছিটিয়ে যান। রবীন্দ্রনাথের যূথীই বাংলার সুপরিচিত ফুল জুঁই, সংস্কৃতি ভাষায় যূথিকা, ইংরেজিতে জেসমিন। এটি তিউনিসিয়ার জাতীয় ফুল। যদিও বেলি ফুলের সঙ্গে জুঁই ফুলের সাদৃশ্য অনেক, তথাপি বৈসাদৃশ্যও রয়েছে। জুঁইকে বরং বুনো বা জঙ্গলি বেলি বলা যেতে পারে। জুঁই মূলত রাতে ফোটে এবং চারপাশ সুবাসে ভাসিয়ে নেয়।

জুঁই বনের প্রান্তে ঝোপঝাড় বেয়ে ওপরে উঠে যায়। রাতের বেলায় সেই বুনোপথে যদি কেউ হেঁটে যায় তবে সে চকিতে থমকে যায়, সুমন্দ সুগন্ধে আপ্লুত হয়। কুন্দ, জুঁই, চামেলি, বেলি—এই চারটি ফুল একসঙ্গে দেখলে মনে হবে এরা সহোদরা। এত মিল! আবার তারা আপন আপন বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। সুগন্ধের জন্য জুঁই ফুলের বাণিজ্যিক চাষ হয়। আবার ভেষজ চা হিসেবে জুঁইফুলের চা জনপ্রিয় হচ্ছে ইদানীং। প্রাচীনকাল থেকে নারীদের প্রসাধনীতে  জুঁই ফুলের সুবাস ব্যবহূত হয়ে আসছে।

কবিতায়, গানে ঘুরেফিরে এসেছে যুথী বা জুঁই ফুল। মেয়েদের নাম হিসেবে জুঁই ও যূথীর জনপ্রিয়তায় অন্য ফুলের মনে দারুণ ঈর্ষা জাগে, তাই তো বেশিরভাগ ফুল আগুনের মতো লাল!