তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি
ইঞ্জিনিয়ার পলাশ মজুমদার, শিক্ষক
চাঁদপুর জনতা হাইস্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা
সৃজনশীল পর্ব-২:
এইচএসসি পরীক্ষা-২০২২ সালের সিলেবাসের আলোকে আইসিটি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনার আজ দ্বিতীয় পর্ব।
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ প্রীতি ও শুভেচ্ছা রইলো। কোভিড ১৯ প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি আলোকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিষয় কোড: ২৭৫ এর তত্ত্বীয় পাঠের সৃজনশীল অংশের পাঠ নিয়ে আলোচনা করবো। প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ আজকের পর্বে প্রথম অধ্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত শিখনফল ‘প্রাত্যহিক জীবনে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রভাব মূল্যায়ন’ অংশে পাঠ- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সামপ্রতিক প্রবণতা (ঈড়হঃবসঢ়ড়ত্ধত্ু ঃত্বহফং ড়ভ ওঈঞ) এর অন্তর্ভূক্ত পাঠ শিরোনাম: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) নিয়ে আলোচনা করবো।
উদ্দীপক: আইটি ইঞ্জিনিয়ার জনাব রফিকুল ইসলাম একজন দক্ষ আইটি স্পেশালিস্ট ও পরামর্শক। তিনি তাঁর অফিসে প্রবেশ করার সময় একটি বাটন প্রেস করেন এবং আবার ঐ বাটনটি প্রেস করে অফিস থেকে বের হন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মোতাবেক তাদের কম্পিউটারে সুনিদিষ্ট বিষয়ের উপর বিশাল তথ্য সংগ্রহ করে দেন এবং কম্পিউটার থেকে উক্ত বিষয়ের উপর প্রশ্ন করে উত্তর জানার ব্যবস্থা করে দেন। অফিসের ডকুমেন্টগুলোকে তিনি একটি বিশেষ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং তার সকল গ্রাহকদের এক্সপার্ট সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। জনাব রফিকুল ইসলামের কর্মদক্ষতায় তার প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে।
ক. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
(Artificial Intelligence) কী?
খ. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রধান প্রধান উদ্দেশ্যগুলো উল্লেখ কর।
গ. মানব বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তুলনামূলক পার্থক্য সমূহ উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে জনাব রফিকুল ইসলাম এক্সপার্ট সিস্টেম ব্যবহার সম্পর্কে যে পরামর্শ দিয়ে থাকেন তার কর্মপরিধি বিশ্লেষণ কর।
(ক) নং প্রশ্নের উত্তর
Artificial শব্দের অর্থ হলো কৃত্রিম এবং Intelligence শব্দের অর্থ হলো বুদ্ধিমত্তা। ইনটেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তা শব্দটি হলো কতকগুলো বিশেষ গুণের সমষ্টি। যেমন:কোনো বিষয় সম্পর্কে ধারনা লাভ করা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন, সমস্যার সমাধানের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগানো, দ্রুত সাড়া দেওয়া ও ভাষা বোঝতে পারার সক্ষমতাই বুদ্ধিমত্তার অংশ। অর্থাত্ মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটি ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকর্থি প্রথম চালু করেন। তাঁর মতে- ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো বুদ্ধিমান যন্ত্র নির্মাণের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’।
(খ) নং প্রশ্নের উত্তর:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রধান প্রধান কিছু উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হলো:
বিচারশক্তি (Reasoning)- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ভুল-সঠিক, ভালো-মন্দ বিচারশক্তি থাকে।
জ্ঞানের উপস্থাপনা (Knowledge Repersentation)- কৃত্রিমভাবে প্রদত্ত তথ্য থেকে জ্ঞান উপস্থাপন করতে পারে।
পরিকল্পনা (Planning)- কৃত্রিমভাবে প্রদত্ত তথ্যগুলোর আলোকে পরিকল্পনা অনুসারে কাজ করতে সক্ষম।
যন্ত্রের শিক্ষা (Machine Learning)- কৃত্রিম ভাবে প্রদত্ত তথ্যগুলো যন্ত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে থাকে।
যোগাযোগ (Communication)- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ব্যক্তির পরিবর্তে যন্ত্র যোগাযোগ করতে পারে।
সনাক্তকরণ (Recognition)- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মানুষের কণ্ঠস্বর, মুখ, অবজেক্ট সনাক্ত করতে সক্ষম।
অবজেক্ট নড়াচড়া ও ব্যবহার করা (Motion & Manipulation of Object)- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কোনো অবজেক্টকে দক্ষভাবে নড়াচড়া ও ব্যবহার করা যায়।
প্রাকৃতিক ভাষার প্রক্রিয়াকরণ (Natural Language Processing)- মানুষের ভাষাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে প্রক্রিয়াকরণ করে যন্ত্র ও মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা যায়।
উপরোক্ত উদ্দেশ্যগুলো ছাড়াও আরো অনেক জটিল বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বাস্তবায়ন করা যায়।
(গ) নং প্রশ্নের উত্তর:
জনাব রফিকুল ইসলাম নিজের বুদ্ধিমত্তাকে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তায় রূপান্তর করে বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। নিম্নে মানব বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তুলনামূলক পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
মানব বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ইন্দ্রীয়সমূহের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করতে পারে কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তা করতে পারেন না।
মানব বুদ্ধিমত্তা যেকোনো বিষয়ে যেকোনো সময় চিন্তা করতে পারে কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে যতটুকু সক্ষমতা দেওয়া হয় ততটুকু বাহিরে চিন্তা করতে পারে না।
মানব বুদ্ধিমত্তা সকল বিষয়ে পারদর্শী হতে পারে কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
মানব বুদ্ধিমত্তা সব সময় একই রকম পারদর্শিতা প্রদান করতে পারে না কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব সময় একই রকম পারদর্শিতা প্রদর্শন করে।
মানব বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টিশীল কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টিশীল নয় এবং নতুন কোনো তথ্য দিতে পারে না।
মানব বুদ্ধিমত্তা প্রকৃতগতভাবে প্রাপ্ত কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট।
মানব বুদ্ধিমত্তার স্মৃতি চিরস্থায়ী নয় সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয় অপরদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্মৃতি সবসময় একই রকম থাকে।
মানব বুদ্ধিমত্তা সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হতে পারে কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকশিত হতে পারে না।
মানব বুদ্ধিমত্তা লিখে রাখা সম্ভব নয় কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাগুলো লিখিত আকারেই থাকে।
(ঘ) নং প্রশ্নের উত্তর:
জনাব রফিকুল ইসলাম একজন দক্ষ আইটি স্পেশালিস্ট হওয়ায় তিনি বিভিন্ন প্রকার এক্সপার্ট সিস্টেমের কর্মপরিধি ও ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তার পরামর্শ অনুসারে রোগীর রোগ নির্ণয়, বিমান চালনা করা, পরিকল্পনা ও সিডিউলিং নির্ধারণ, বিভিন্ন ডিভাইসের সার্কিট ডিজাইন করা ও এর ত্রুটি সংশোধন করা, গাড়ির গতির সাথে মিল রেখে গিয়ার পরিবর্তন করা, ভূ-গর্ভস্থ প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান করা, শেয়ার মার্কেটের লেনদেন এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা, সফটওয়্যার ভিত্তিক খেলাসমূহ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কার্যক্রমে এক্সপার্ট সিস্টেম ব্যবহার হয়ে থাকে।
এক্সপার্ট সিস্টেমের কর্মপরিধি:
Molgen: এটি একটি জ্ঞানভিত্তিক এক্সপার্ট সিস্টেম।
Dendral: এটি সর্বপ্রথম নলেজ বেইজড এক্সপার্ট সিস্টেম যার দ্বারা প্রোগ্রামিং শেখার কাজ সহজ হয়।
Cadulus & Mycin: একজন অভিজ্ঞ চিকিত্সকের মতো চিকিত্সা পরামর্শ প্রদান করতে পারে।
Internist: মেডিকেল সিস্টেমে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মতো চিকিত্সা পরামর্শ দিতে পারে এবং নির্ভুলভাবে জটিল রোগের সার্জারি করতে পারে।
RI: কম্পিউটার ডিজাইনারদের কাজেও এক্সপার্ট সিস্টেম ব্যবহূত হয়।
Deep blue:এই সিস্টেম দাবা খেলা ও দাবা খেলার বিচারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
Denoral: এই সিস্টেম পদার্থের আনবিক গঠন জানতে সহযোগিতা করে।
Prospector:এই সিস্টেম খনিজসম্পদ ও আকরিক পদার্থ অনুসন্ধান করা জন্য ব্যবহার করা হয়।