গল্পকথায় পদার্থবিজ্ঞান
মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)
ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
নীলকান্তবাবুকে আজ খুব চিন্তাগ্রস্ত দেখা গেল। অফিস থেকে ফেরার পর তিনি কমলাকে বললেন-পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে প্রথম একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৭০ বছরের বেশি বয়সের ওই ব্যক্তি একজন প্রবাসীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন। এছাড়া গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চারজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ১৪ জন। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের পঞ্চাশটিরও বেশি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৮২৭০ জন। আমাদের দেশে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ কিট, পিপিই, হাসপাতালের প্রস্তুতিসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। জ্বর, সর্দি, কাশিসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে কেউ হাসপাতালে গেলে ডাক্তারগণ এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডা থেকে আসা এক ছাত্রকে করোনা সন্দেহে ডাক্তার-নার্সরা চিকিত্সা দেয়নি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
বলো কী? আঁঁতকে উঠলেন কমলা।
হ্যাঁ, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে ভালোই করেছে। বললেন নীলকান্তবাবু। নইলে বাচ্চা-কাচ্চারা ক্লাসের মধ্যে গাদাগাদি করে বসে আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ত। শিক্ষকগণও ঝুঁকিতে পড়তেন।
অফিস আদালতও যদি বন্ধ করে দিত, তাহলে অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত হওয়া যেত। বললেন কমলা।
কিন্তু বন্ধ করে দিয়ে কয়দিন চলবে।
অনেক দেশ তো লকডাউন দিয়ে দিয়েছে। সরকার জনগণকে খাবার, পানি, ঔষধ দিচ্ছে।
নীলকান্তবাবু বললেন-কিন্তু সেই দেশগুলো তো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালি।
আমাদের বাংলাদেশে এরকম সহায়তা করতে গেলে সরকার হিমশিম খাবে।
আচ্ছা, সে চিন্তা করে ভয় পেয়ে তো লাভ নেই, বললেন কমলা।
তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো।
নীলকান্তবাবু ওয়াশ রুমে ঢুকে পরনের কাপড় চোপড় সাবান দিয়ে ভালো করে কেচে দিলেন নিজেই। সাবান মেখে স্নান সেরে নিলেন। ডাইনিং টেবিলে এসে বসার পর কমলা এক পেট নুডুলস এনে দিলেন। বাচ্চা-কাচ্চারা সবাই এসে জড়ো হয়েছে। তবে কেউ কিছু বলছে না। করোনার ভয়ে সবাই আতঙ্কিত। নীলকান্তবাবু ভাবলেন-ভয় করলে তো চলবে না, সতর্ক থাকতে হবে। করোনাকালিন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। এখন স্বাভাবিক কাজ কর্ম চালিয়ে যেতে হবে। কোনও কিছু ফেলে রাখা চলবে না।
তিনি নিজে থেকেই শুরু করলেন-মহাবিশ্বের সকল ধরনের কণাকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। বিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মির নামানুসারে ফার্মিয়ন (Fermion) আর আমাদের দেশের বিজ্ঞানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন বাঙালি অধ্যাপক সত্যেন বোস এর নামানুসারে বোসন (Boson)।
আমাদের বিজ্ঞানী? খুশি হয়ে উঠল সবাই।
হ্যাঁ।
তাহলে তো সেই বিজ্ঞানী সম্পর্কে জানতে হয়, বললেন কমলা।
সত্যেন বোস সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা থাকা উচিত। কিন্তু সেই গল্প অন্যদিন হবে। আজ যেটা শুরু করেছি, তা শেষ করি বললেন নীলকান্তবাবু। বিশ্বের তাবত্ বস্তুকণাগুলোকে বলা হয় ফার্মিয়ন, আর বস্তুকণার ভেতরে বল বা শক্তির আদানপ্রদান করে যে কণা, তাদেরকে বলা হয় বোসন। ফার্মিয়ন আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কোয়ার্ক আর লেপটন। কোয়ার্ক দুই ধরনের, আপকোয়ার্ক ঁএবং ডাউনকোয়ার্ক । লেপটনও দুই ধরনের, ইলেকট্রন এবং ইলেকট্রন নিউট্রিনো। আমাদের পরিচিত ফার্মিয়ন গুলোর স্পিন।
স্পিন কী মামা? চন্দ্রা বলল।
স্পিন হচ্ছে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার স্পিন কোয়ান্টাম সংখ্যা। স্পিন পরিমাপ করা হয় হ্রাসকৃত প্যাংক ধ্রুবক এর সাহায্যে। কোনও বস্তু কোনও বিন্দু বা অকে কেন্দ্র করে যেমন ঘুরতে পারে, তেমনি লাটিমের মতো আপন অক্ষে চারদিকেও পাক খায়। আপন অক্ষে চারদিকে পাক খাওয়াকে বলা হয় স্পিন। দুই ধরনের বিপরীতমুখী স্পিন থাকতে পারে। ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘূর্ণন বা দক্ষিণাবর্তী স্পিনকে বলা হয় ঊর্ধ্বমুখী স্পিন বা ধনাত্মক স্পিন, আর ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী বা বামাবর্তী স্পিনকে বলা হয় ঋণাত্মক স্পিন।
পরের অংশ আগামীকাল