লক্ষ্মীপুর ও ঝালকাঠির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

অস্বাভাবিক জোয়ার

ইত্তেফাক ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়ায় পূর্ণিমার জোয়ারে পানি বৃদ্ধি ও অবিরাম বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরের তিনটি উপজেলায় হঠাত্ মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। জেলার রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের বিপুল ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে। কমলনগরের চর মার্টিন এলাকায় একটি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে নদীর পানি বেড়ে এই তিনটি উপজেলা প্লাবিত হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ-ছয় ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। রামগতির বিচ্ছিন্ন চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. টিপু জানান, তেলির চর, উত্তর চর আবদুল্লাহ, চর গাসিয়া ও চর মোজ্জামেল পানিতে ডুবে গেছে। জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট ও বাড়ির উঠান ডুবে বসতঘরে পানি উঠেছে। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজারও মানুষ। তিনি আরো জানান, তেলির চর বাজার, কামাল বাজার ও চেয়ারম্যান বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

রামগতি উপজেলার মেঘনার ভাঙনকবলিত চর আলেকজান্ডার, সুজনগ্রাম, গাবতলী, চর আলগী, চর গোঁসাই, বালুরচর, চর রমিজ, বড়খেরী, চর গাজী ও চর গজারিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এদিকে কমলনগরে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ না থাকায় উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন, সাহেবেরহাট ইউনিয়ন, চর মার্টিন ইউনিয়ন, চর ফলকন ইউনিয়ন ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের মেঘনা উপকূলীয় এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, চর মার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলম মেম্বার বাড়ির দক্ষিণ পাশের রাস্তাটি জোয়ারের তোড়ে ভেঙে গেছে। এতে মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে রয়েছেন চলাচলকারীরা।

রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাসিন্দা আরমান আলী ও হুমায়ুন জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে অন্তত পাঁচ-ছয়টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে। এখানে বসবাসকারীরা অবহেলিত ও দরিদ্র। চর জালিয়া, চর ঘাষিয়া, চর ইন্দুরিয়া, কানি বগার চর, নতুন কানি বগার চরে ফসলের মাঠের ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় গরু-মহিষসহ গবাদি পশু নিয়ে লোকজন বিপাকে পড়েছেন।

কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের সময় নদীর পানির উচ্চতা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে অবিরাম বর্ষণে ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে পুকুর, মাছের ঘের ও আমনের বীজতলা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার আমুয়া, জয়খালী, হেতালবুনিয়া, চিংড়াখালী, কাঠালিয়া, দক্ষিণ আউরা, পশ্চিম আউরা, বড় কাঠালিয়া, কচুয়া, রগুয়ার চর, রগুয়ার দরিচর, আউরাবুনিয়া ও জাঙ্গালিয়াসহ ১২টির অধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

আউরাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মাইনুল হোসেন বলেন, জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলের ক্ষেত ও বাড়ির আঙিনাও পানিতে তলিয়ে গেছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষখালী নদীর তীরে স্থায়ী কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেলেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বিষখালী নদীর তীরে যে মাটির বাঁধটি রয়েছে তা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে। যে কারণে খুব সহজে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে নিচু এলাকায়। আমুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বিষখালী নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেলেই আমুয়ার অনেক গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষখালী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে পূর্ণিমার জোয়ারে পানি বৃদ্ধিতে আমন বীজতলা তলিয়ে গেছে। তবে নদীতে ভাটা হলে পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকের ফসল কিছুটা রক্ষা পাবে।