বিপাকে ব্যবসায়ীরা
ইত্তেফাক ডেস্ক
কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধসের কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আড়তদার পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় এবার চামড়া কেনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পশুর চামড়া কিনে বিপাকে পরে পানির দামে বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, এবারও চামড়ার বাজারে ধসের কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় মৌসুমি ফড়িয়া চামড়া ব্যবসায়ীরা। পাড়া-মহল্লায় এবার কোনো চামড়া ক্রেতাকে পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বর এলাকায় অস্থায়ী চামড়া বাজারে প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা গেছে। ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবু কেনার লোক নেই। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামীম হোসেন জানান, ট্যানারি মালিকদের কারসাজিতেই চামড়ার বাজারে এই ধস নেমেছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় আমরা ব্যবসার পুঁজি সংকটে পড়েছি। জয়পুরহাট অঞ্চলে অন্যান্য বছর প্রায় ২/৩ কোটি টাকার কাঁচা চামড়া কেনাবেচা হতো সেখানে এবার ২/৩ লাখ টাকায় চামড়া কেনাবেচা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদগঞ্জে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। বিশেষ করে ছাগলের চামড়া কেউ কিনতে চায়ই না। গরুর প্রতি পিস চামড়া ৮০ টাকা হতে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। ছাগলের চামড়া কোথাও কোথাও ফ্রিতে নিয়ে গেলেও অনেকে আবার বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে দিয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ী মাও. মোস্তফা বলেন, আমি গত কয় বছর ঢাকায় চামড়া দিয়ে ১৩ লাখ টাকা পাব। আমাকে টাকা না দিয়ে শুধু টালবাহানা করা হচ্ছে। কোনোভাবেই টাকা আদায় করতে পারিনি। আমার সব পুঁজি শেষ। এখন পথে বসার উপক্রম।
কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, কচুয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে দারুণ বিপাকে পড়ে পানির দামে বিক্রি করেছে চামড়া বিক্রেতারা। অন্যান্য বছর সমগ্র উপজেলায় ১০ সহস্রাধিক ক্রেতারা চামড়া কিনে নিত। অথচ ঐ সংখ্যার অর্ধেকের কমসংখ্যক ক্রেতাকে এ বছর চামড়া কিনতে দেখা যায়। এবার উপজেলায় গড়ে প্রতিটি চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। অনেকেই আরো বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় চামড়া রেখে দেয় লবণ ছিটিয়ে। ক্রেতা না আসায় ঐসব চামড়া পচে নষ্ট হয়ে যায়।