ইত্তেফাক রিপোর্ট
সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রাক্তন মহাসচিব অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম আর নেই। হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার সকালে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার মরদেহ এভারকেয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বড় ছেলে দেশে ফিরলে তাকে শাহজাহানপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এলডিপির একাংশের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম জানান, অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম গতকাল সকালে বসুন্ধরায় নিজ বাসায় হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাথরুমে পড়ে যান। দ্রুত তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। মরহুমা জাহানারা বেগম স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ায় ভুগছিলেন।
অধ্যাপিকা জাহানারার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন, এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। এলডিপির আরেকাংশের সভাপতি আবদুল করীম আব্বাসী ও মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমও গভীর শোক জানান। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়াও পৃথকভাবে শোক জানিয়েছেন।
জাতীয়তাবাদী যুব মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জাহানারা বেগম ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালের সরকারে তিনি তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘদিন ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে অধ্যাপনা করেন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এবং ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের শেষদিকে অলি আহমদের নেতৃত্বে বিএনপি ছেড়ে তিনি এলডিপিতে যোগ দেন। পরে তিনি এলডিপি ছেড়ে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত ফ্রন্ট বিএনএফের কো-চেয়ারম্যান হন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি রাজনীতির বাইরে থাকেন। জাহানারা বেগমের স্বামী পিডিবির প্রকৌশলী আহমেদ মোস্তফা ১৯৮৬ সালে মারা যান।