সিডনিতে লকডাউনবিরোধী মিছিল, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, গ্রেফতার ৫৭

অস্ট্রেলিয়ার সরকার যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার চিন্তা করছে ঠিক সেই মুহূর্তে ‘বাড়িতে থাকো আদেশ’কে অমান্য করে কয়েক হাজার লোক দেশটির দুটি বড় শহর সিডনি ও মেলবোর্নে লকডাউন বিরোধী মিছিল করেছে। এ নিয়ে সিডনি শহরে মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অশ্বারোহী পুলিশকে মাঠে নামানো হয়। পুলিশ ৫৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদের গ্রেফতার করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়ালেসের পুলিশমন্ত্রী ডেভিড এলিয়ট এ বিক্ষোভকে‘ স্বার্থপরদের কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্ম বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, তাদের বন্ধু এবং স্বজনদের সংক্রমিত করার কোনো অধিকার বিক্ষোভকারীদের নেই। এক দিনের মধ্যে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের করোনার পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় করোনা সংক্রমণের হার খুব নগণ্য। গতকাল শনিবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ১২ জন এবং সিডনিতে (নিউ সাউথ ওয়ালসে) ১৬৪ জন । দুই দিন আগে এ সংখ্যা যখন ১৩৬ ছিল তখন প্রিমিয়ার গ্ল্যাডিস বেরেজিকিলিয়ান পরিস্থিতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা বলে অভিহিত করেছিলেন। সরকারের মধ্যেও জরুরি অবস্থা ঘোষণার আলোচনা শুরু হয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে সেনাবাহিনীকে তলব এবং ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য জনগণকে বাধ্য করা হবে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন থেকে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেটার সিডনি এলাকায় লকডাউনের ঘোষণা করা হয় । তখন সংক্রমণের হার ছিল দুই অঙ্কের ঘরে। লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কর্মে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রতি সপ্তাহে ৬০০ ডলার এবং ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এককালীন ৭ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার এবং ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের প্রাপ্ত বেতনের ৪০ শতাংশ সরকার প্রদান করছে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুত্, গ্যাস এবং পানির বিল পরিশোধে প্রণোদনাও দিচ্ছে সরকার। যারা ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে সক্ষম নয় তাদের কিস্তি আদায় বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ঋণ সহায়তা দিতে ব্যাংকগুলো নানা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছে।