এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় সারা দেশে মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। যার মধ্যে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৭১৫টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। তবে গত বছর কোরবানি হয়েছিল প্রায় ৯৫ লাখ গবাদিপশু। সে হিসেবে এ বছর প্রায় ৪ লাখ গবাদিপশু কম কোরবানি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহামারি করোনার কারণে গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অনেক চাকরিজীবী চাকরি হারিয়েছেন। অনেকেই নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। এর প্রভাব পড়েছে কোরবানিতেও। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার কোরবানির পরিমাণ কমেছে।
মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে এ বছর ঈদুল আজহায় ঢাকা বিভাগে ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৫২টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৫টি, খুলনা বিভাগে ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৬০১টি, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৭৯টি, সিলেট বিভাগে ৪ লাখ ৮ হাজার ৯৪১টি, রংপুর বিভাগে ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৯টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।
অনলাইনে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার
৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রয়
এবার ঈদুল আজহায় একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অনলাইনে প্রচুর গবাদিপশু কেনাবেচা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি। গতবছর অনলাইন প্ল্যাটফরমে গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছিল ৮৬ হাজার ৮৭৪টি। যার আর্থিক মূল্য ছিল ৫৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৯ টাকা। আর এ বছর অনলাইনে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রয় হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২৭৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।
মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মূলত সরকারি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন হাটগুলো পরিচালিত হওয়ায় ক্রেতারা ডিজিটাল হাটের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী বছর অনলাইন প্ল্যাটফরমে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয়ের পরিসর আরো বাড়ানো হবে বলে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।