কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফের অবস্থা অপরিবর্তিত। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা আলী আশরাফের অবস্থার খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সামরিক সচিব। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঈদের দিন বিকাল ৩টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
আলী আশরাফের একমাত্র ছেলে ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মুনতাকিম আশরাফ টিটুকে বৃহস্পতিবার ফোন করে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবও একাধিকার ফোন করে খবর নিয়েছেন।
অধ্যাপক আলী আশরাফের ব্যক্তিগত সহকারী মো. জসিম উদ্দিন চিকিত্সকদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল শনিবার বিকালে ইত্তেফাককে জানান, তার অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। কোনো ওষুধেও কাজ হচ্ছে না। ডাকে সাড়াও মিলছে না। চিকিত্সকদের পরামর্শে ভারত থেকে ২১টি ইনজেকশন আনা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ইনজেকশন দেশে পৌঁছেছে। গতকাল বিকাল থেকে ইনজেকশন দেওয়া শুরু হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, দুই-তিন দিন পর অবস্থা বোঝা যাবে। ভারত থেকে ইনজেকশন আনার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও সেখানে সংশ্লিষ্ট স্থানে ফোন করে সহযোগিতা করেছেন।
আলী আশরাফের ব্যক্তিগত সহকারী জসিম আরো জানান, পিত্তথলিতে জমা পাথর অপসারণের জন্য ৭৩ বছর বয়সি আলী আশরাফকে গত ১০ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে কেবিন থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সংক্রমণ কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ নিউমোনিয়া ধরা পড়ে, বুধবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিত্সকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন।
সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলী আশরাফ ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তিনি এ নিয়ে পঞ্চম বার কুমিল্লা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০০ সালে তিনি সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।