স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহীতে এবার প্রায় ৪৪ হাজার কোরবানির উপযোগী গরু বিক্রি হয়নি। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির জন্য রাজশাহীতে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৬৬টি গরু পালন করা হয়েছিল। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছে ৬২ হাজার ৮৫৪টি। অবিক্রীত থেকে গেছে ৪৩ হাজার ৮১২টি গরু। তবে ছাগল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অর্জিত হয়েছে বলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। সূত্র মতে, এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য ছাগল প্রস্তুত ছিল প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার। এর মধ্যে কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার। ভেড়া পালা হয়েছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কোরবানি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৬৬৩টি। এছাড়া রাজশাহীতে মহিষ কোরবানির প্রচলন কম। তাই খামারে মহিষ পালনও কম হয়। এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পালন হয়েছিল ২ হাজার ৯৫৬টি মহিষ। এর মধ্যে মাত্র ৩১৫টি মহিষ কোরবানি হয়েছে। রাজশাহী জেলায় গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ ৮২ হাজার পশু পালন করা হলেও কোরবানি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজারটি। ফলে এবার অবিক্রীত থেকে গেছে প্রায় ৭৩ হাজার কোরবানির পশু। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আহান অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে না পেরে ৩০টি গরু ঢাকায় নিয়েছিলেন। সেখানে বিক্রি হয়েছে ১৯টি, যেগুলোর দাম ৩ লাখের নিচে। আর ৩ লাখের ওপরে যে ১১টি গরুর দাম, সেগুলো বিক্রি হয়নি। তাই অবিক্রীত গরুগুলো তিনি পুনরায় নিজ খামারে ফেরত নিয়ে আসেন। রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ খড়খড়ি এলাকার ‘ওয়াফি অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ৫৩টি গরুর মধ্যে মাত্র ১৫টি বিক্রি করতে পেরেছেন। বড় গরুগুলো বিক্রি করা যায়নি। রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইসমাইল হক বলেন, এবার বাইরে থেকে কোনো পশু আমদানি করা হয়নি। তারপরও অনেক পশু অবিক্রীত থেকে গেছে।