২ ০১৩ অস্টম বাংলাদেশ গেমসের সময় পরিচয়, ২০১৮ গোলকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের ক্যাম্পে চলাকালে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেম। দীর্ঘ প্রণয়ের পর ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল বিয়ে করেন আনসারের ক্রীড়াবিদদ্বয়। এর ৯ মাস পর কাঠমান্ডু এসএ গেমসে ৬৪ কেজি লাইট ওয়াল্টার বক্সার আল আমিন জেতেন ব্রোঞ্জ, ভারোত্তোলনের ৭৪ কেজি শ্রেণিতে নিশা রুপা। ২০০৯ সাল থেকে টানা স্বর্ণ জিতে আসছেন রাজশাহীর এ বক্সার, বাংলাদেশ গেমসে ২টি, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৮টি। নিজের ইভেন্টে নিশার দাপট চলছে ২০১৪ সাল থেকে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে সংসার আল আমিন-নিশার। ভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড় হওয়ায় আনসারের ভাতাভুক্ত ক্রীড়াবিদদ্বয়ের অনুশীলন ক্যাম্প হয় দুই জায়গায়, দুই সময়ে; আল আমিনের সকালে হলে, নিশার বিকালে। কিংবা নিশার সকালে হলে আল আমিনের বিকালে। তারপরও কেরানীগঞ্জ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে ঢাকায় অনুশীলনে আসতেন দুটি কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়া বক্সার আল আমিন। অনুশীলন শেষে বিকালে ঘরে ফেরাও এক সঙ্গে।
স্বাভাবিক জীবনে ব্যস্ততার কারণে ছেলে ইয়াসিন নিশাতকে স্কুলে পর্যন্ত দিয়ে আসার সৌভাগ্য হয়েছে হাতেগোনা কয়েক বার। এ নিয়ে অবশ্য খুব হতাশা নেই আল আমিন বা নিশার। কেননা শৈশব থেকেই নানির ছায়ায় বড় হয়েছে তারা। হতাশা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা দিলেন নিশা, ‘সকালে অনুশীলন থাকলে ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়, সম্ভব হলে নাস্তা তৈরি করে দিয়ে যাই, নয়তো আমার মা-ই (নিচতলায় থাকেন) পরে বানিয়ে দেন। অনুশীলন শেষে বাড়ি ফিরে রান্না-বান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়, খেয়ে-দেয়ে কিছুটা সময় বিশ্রাম, সম্ভব হলে বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে যাওয়া হয়।’ ক্লান্তি কাটিয়ে সম্ভব হলে সন্ধ্যায় ছেলেকে পড়ানোর চেষ্টা করেন নিশা। করোনাকালে পরিস্থিতি পালটে গেছে, বাচ্চাদের সময় দিতে পারছেন আল আমিন-নিশা দম্পতি। ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সময়টা বেশ উপভোগ করছেন এই দম্পতি।