ঘ টনাটা ২০১০ সালের। বাংলাদেশ দলের সঙ্গী হয়ে দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমসে গিয়েছিলেন এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী দুই সাঁতারু শাহজাহান আলী রনি ও মাহফুজা খাতুন শিলা। আগ্রায় সম্রাট শাহজাহানের অমর প্রেমের স্মৃতিসৌধ তাজমহলের সামনে সাঁতারু শাহজাহান হয়ে গেলেন প্রেমিক পুরুষ, সেদিনই শিলার কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কোনো দিনও তাকে ছেড়ে না যাওয়ার। দুজনের সম্পর্কটা এরপর ধীরে ধীরে গভীর হয়েছে। কবে কখন একজন হয়ে গেছেন আরেকজনের পরিপূরক, বুঝতেই পারেননি।
বাংলাদেশের হয়ে দুজনই পুল মাতিয়েছেন এসএ গেমস, দুজনেরই প্রিয় ইভেন্ট ব্রেস্ট স্ট্রোক। ২০০৬ কলম্বো এসএ গেমসে ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সোনা জিতেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শাহজাহান। আর ২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটি ও শিলংয়ে এসএ গেমসে ৫০ ও ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে জোড়া সোনা জিতেছেন যশোরের মেয়ে শিলা। ক্রীড়াঙ্গনের এই জুটি জীবনেরও জুটি গড়েছেন।
ভালোবাসার প্রস্তাব কে আগে দিয়েছিল? প্রশ্নটা করতেই শিলার লাজুক উত্তর, ‘ও কথা আমার একদমই মনে নেই।’ শিলার শুধু এটা মনে আছে, ‘ও ছিল তখন বিকেএসপির সেরা খেলোয়াড়। চারদিকে ওর অনেক নাম-যশ। আমিও যেহেতু ওর মতোই ব্রেস্ট স্ট্রোক ইভেন্টে সাঁতরাই, তাই কোচ স্যার ওর কাছ থেকে টিপস নিতে বলেছিলেন।’ বিকেএসপিতে এভাবেই দুজনের পরিচয়। এরপর ধীরে ধীরে ভালো লাগা, সেখান থেকে হয়ে গেল ভালোবাসা।
স্বামীকে নিয়ে শিলার চমত্কার মূল্যায়ন, ‘ও জীবন-সঙ্গী হিসেবে মোটেও মন্দ না। খুবই দায়িত্ববান। তবে একটু সহজ সরল। কোনো প্যাঁচগোচ নেই। কোনো বাজে অভ্যাসও নেই।’
একই সুরে কথা বললেন রনিও ‘শিলার সবচেয়ে বড় গুণ, ও খুব যত্নশীল। কখন কি করতে হবে, কোনটা বলা উচিত, কোনটা উচিত না ও এসব বেশি ভাবে। আসলে পরস্পরকে সহজেই বুঝতে পারি আমরা।’ দুজনের ভালোবাসার রসায়নটা যেন সুইমিং পুলের নীল জলের ঢেউয়ের মতোই।