এবারও রাজধানীতে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে বেশির ভাগ পশু কোরবানি দেননি নাগরিকরা। বাড়ির আঙিনা, সড়কের ওপর তাদের কোরবানি দিতে দেখা গেছে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিএনসিসি এলাকায় প্রায় ৩ লাখ ১১ হাজার ৭৯০টি পশু কোরবানি হয়েছে। কিন্তু করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে কোরবানি হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ১৪৪টি। যা মোট কোরবানি হওয়া পশুর মাত্র ১ দশমিক ৩৩ ভাগ। ঢাকা উত্তর সিটির মোট ২৭০টি জায়গায় প্যান্ডেল করে পশু কোরবানির জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তারপরেও নির্ধারিত স্থানে যেতে অনীহা ছিল নাগরিকদের।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবার কোরবানির জন্য জায়গা নির্ধারিত করেনি। প্রতি বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় পশু জবাই দেওয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান চিহ্নিত করে অস্থায়ী শেড তৈরি করে দেওয়া হয়। এবার ডিএসসিসির কাউন্সিলরদের আপত্তির কারণেই এ কার্যক্রম থেকে সরে এসেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ডিএসসিসি বলছে, নির্ধারিত স্থানে মানুষ কোরবানি দিতে চায় না। বেশির ভাগই নিজেদের মতো করে কোরবানি দেয়। যার কারণে সিটি করপোরেশনের অর্থের অপচয় হয়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, গত দুই বছর ধরে ঈদুল আজহায় কোথাও নির্ধারিত স্থান করে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ স্থানগুলোতে মানুষ যায় না। এতে অর্থের অপচয় হয়। বোর্ড সভায় কাউন্সিলররাও আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের আপত্তির কারণে এ বছরও আমরা কোনো নির্ধারিত স্থান করে দিইনি।
এবার উত্তর সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পশু কোরবানির জন্য একাধিক জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। নির্ধারিত স্থানে করা হয়েছিল প্যান্ডেল। প্যান্ডেলের নিচে বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পশু জবাই কাজের জন্য পানি ও কোরবানিদাতাদের আরামের জন্য পাখার ব্যবস্থা ছিল। এমনকি মানুষকে আগ্রহী করতে প্যান্ডেলে সেমাই ও চকলেটের ব্যবস্থাও করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু করপোরেশন এত চেষ্টা করেও সব নাগরিককে আনতে পারেনি নির্ধারিত স্থানে। যে যার মতো যেখানে সেখানে কোরবানি দিয়েছেন। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখার পরও মানুষের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়া নিয়ে তেমন আগ্রহ ছিল না। কোরবানি দেওয়ার ধারণা ও পদ্ধতি এখনো মান্ধাতা আমলেরই রয়ে গেছে।
আগামীতে কোরবানিতে করপোরেশন যেখানে স্থান নির্ধারণ করবে, সেই নির্দিষ্ট জায়গাতেই কোরবানি দিতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোথাও কোরবানি দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বাড়ির মালিক, সোসাইটি ও কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি এবং সমাজের মুরব্বিদের সবার সাহায্য চাই। কারণ, বাচ্চারা যখন পশু জবাইয়ের দৃশ্য দেখে, তখন তারা বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারে না।
মেয়র আরও জানান, নির্ধারিত স্থানে না আসার বিষয়ে অনেকে বিভিন্ন আশঙ্কার কথা বলেছেন। কিন্তু যারা এখানে এসেছেন, তারা বলতে পারবেন করপোরেশনের কাছ থেকে তারা কেমন সুবিধা পেয়েছেন।
ইত্তেফাক/এমএএম