বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেলেন শামীম

স্পোর্টস রিপোর্টার

তীরে এসে তরী ডুবানোর গল্পে ভারাক্রান্ত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। হারারেতে গত রবিবারও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৯তম ওভারে আউট হয়ে গেছেন। রান-বলের দূরত্ব ঘুচানো, ম্যাচ শেষ করে আসার গুরুভার পালন করেছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামা শামীম হোসেন পাটোয়ারি। ১৫ বলে ৬টি চারে অপরাজিত ৩১ রানে প্রত্যাশার দাবি মিটিয়েছেন শামীম। ঘরোয়া ক্রিকেটে এ ভূমিকায় সফলতার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিজেকে প্রমাণ করলেন এ তরুণ।

ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুতলয়ে রান তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন, হন্যে হয়ে এমন ব্যাটসম্যান খুঁজছিলেন নির্বাচকরা। নাসির হোসেন, সাব্বির রহমানসহ অনেককে দিয়েই চেষ্টা করা হয়েছে। আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তারা। অবশেষে নির্বাচকদের চিন্তা কমিয়ে দিয়েছেন শামীম। মাত্র দুই টি-২০ খেলেই আভাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে সাত-আট  নম্বরে নেমে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের জন্য বাংলাদেশের আশ্রয় হবেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেও ১৩ বলে ২৯ রান করেছিলেন শামীম।

জিম্বাবুয়ে সফরে দুই ম্যাচে ৬০ রান করেই টি-২০ বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে গেলেন চাঁদপুরের এ তরুণ। অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। যেখানে বাংলাদেশ দলে শামীমের স্থান পাকা দেখছেন অনেকেই। বিধ্বংসী ব্যাটিং, দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। ব্যাটিং অর্ডারের সাত-আটে তার মতো সামর্থ্যবান কাউকেই খুঁজছিল বাংলাদেশ দল।

জাতীয় দলের নির্বাচকরাও বিশ্বাস করেন, আগুনে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন শামীম। তবে এখনই প্রশংসায় ভাসাতে নরাজ নির্বাচকরা। শামীম সম্পর্কে গতকাল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘মাত্র তো ২টা ম্যাচ খেলেছে। আরো খেলুক। যে কোয়ালিটিতে খেলে আমার মনে হয় পারবে ও। একটা জিনিস ভালো যে, ছয়-সাতে গিয়ে দ্রুত রান তোলা, বড় শট খেলার কাজটাও করতে পারছে। দেখা যাক, মাত্র তো শুরু করেছে।’

আট বছর পর জিম্বাবুয়ে গিয়ে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে সময় কেটেছে বাংলাদেশের। তিন ফরম্যাটেই সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। একমাত্র টেস্টে জয়ের পর ৩-০ তে ওয়ানডে সিরিজ এবং ২-১ এ টি-২০ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট সিরিজ ড্র করলেও ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল মুশফিকুর রহিমের দল।

সিরিজের মূল্যায়নে প্রধান নির্বাচক গতকাল বলেছেন, ‘সিরিজ তো অসাধারণ কেটেছে, তিনটা ফরম্যাটেই আমরা সিরিজ জিতছি, এটা তো বড় অর্জন। এটা যেন ধারাবাহিকভাবে থাকে, খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে যেন ভারসাম্য থাকে, এটাই কামনা থাকবে। সামনে হোমে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা। যদিও টি-২০ চ্যালেঞ্জিং খেলা সবসময়। আশা করি, এ পারফরম্যান্স হোমে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভালো খেলতে দলকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’

তিন ফরম্যাটে জিতলেও জিম্বাবুয়েকে হালকাভাবে দেখতে চায় না বাংলাদেশ। প্রধান নির্বাচকের মতে, ক্রিকেটের মানচিত্রে দুই দেশের শক্তিমত্তায় ব্যবধান বাড়লেও অভিজ্ঞ, তরুণদের সমন্বয়ে দল গড়তে হবে। একেবারে নবীন দল খেলানো ঝুঁকিপূর্ণ হবে।