আড়াই কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রাসহ যাত্রী আটক

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর কাছ থেকে সৌদি রিয়াল, ইউরো, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামসহ আটটি দেশের প্রায় আড়াই কোটি টাকার মুদ্রা উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ঐ যাত্রীর নাম জাহাঙ্গীর গাজী। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদরে। এক সময় তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি  ফ্লাইটে ওঠার আগে জাহাঙ্গীর গাজীকে মুদ্রাসহ আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই মুদ্রাগুলো পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।

এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিয়াউল হক বলেন, জাহাঙ্গীর গাজীর গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটা ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টার্কিশ এয়ারলাইনসের সর্বশেষ চেকিং গেটে তাকে আটক করা হয়। তাকে প্রথমে চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। এরপর তার শরীর তল্লাশি করে প্রায় ৫০ হাজার রিয়াল উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে স্ক্যানিং করা হলে তার কাছে বিশেষভাবে কৌশলে লুকায়িত অবস্থায় প্রায় ১১ লাখ ৬৫ হাজার সৌদি রিয়ালসহ আটটি দেশের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীকালে তাকে এপিবিএনএর অফিসে নিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আবার তল্লাশি করা হয়। সব মিলে তার কাছে সর্বমোট বাংলাদেশি টাকার আড়াই কোটি টাকা মূল্যমানের বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিয়াউল হক আরো বলেন, জাহাঙ্গীর গাজী ছিলেন এক জন কাপড় ব্যবসায়ী। তার পাসপোর্ট চেক করে দেখা গেছে, গত দুই বছরে তিনি ১২৮ থেকে ১৩০ বারের মতো বিদেশে যাওয়া-আসা করেছেন। এর মধ্যে তিনি দুবাই, আবুধাবি, তুরস্ক, মিশর ও ব্যাংকক গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কমার্শিয়াল যাত্রী হিসেবে যাওয়া-আসা করেন। লাগেজ সুবিধাটি নিয়ে তিনি ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি আরো বলেন, যেহেতু বিপুল পরিমাণ মুদ্রা নিয়ে তিনি বিদেশ রওনা দিচ্ছিলেন সে কারণে ধারণা করা হচ্ছে তিনি একটা চক্রের সদস্য। এ ব্যাপারে কাস্টমস কর্মকর্তা বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করবেন বলে তিনি জানান।