চট্টগ্রাম মহানগরীর নিচু এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে

চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ, চান্দগাঁওসহ কর্ণফুলী নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলো জোয়ারে পানিতে গত দুই দিন ধরে দফায় দফায় তলিয়েছে। নগরীতে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়-বরাদ্দে খাল-নালা পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থাতেও গত দুই বছরে স্থানীয়দের ভোগান্তি কমেনি।

গতকাল সোমবারও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। আগ্রাবাদ থেকে ব্যবসায়ী খায়রুল আলম সুজন জানান, জোয়ারের পানিতে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো ডুবেছে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, সিজিও কলোনি, জাম্বুরি ফিল্ডের আশেপাশের এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এতে বিভিন্ন বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

এদিকে গতকালও নগরীর সবুজবাগ, শান্তিবাগ, হালিশহর, বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকা, নগরীর ব্যাবসায়িক প্রাণকেন্দ্র চাক্তাই খাতুনগঞ্জের কর্ণফুলী নদী ও চাক্তাই খাল তীরবর্তী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছরেই বর্ষাকালে পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময়ে ভরা কাটাল ও মরা কাটালের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের আড়ত, গদি, গুদাম ও অসংখ্য দোকানপাটে অস্বাভাবিক উঁচু জোয়ারের পানি ঢুকছে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্যসামগ্রী ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়, শুক্লপক্ষের জোয়ারের প্রভাব, শ্রাবণের অস্থায়ী বৃষ্টিসহ বৈরী আবহাওয়ার কারণে উঁচু জোয়ারের পানিতে মহানগরীসহ চট্টগ্রামের নদী ও উপকূল সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলো গতকালও প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের অতিরিক্ত পানি ধারণে খাল ও নালার অপর্যাপ্ততার কারণে জোয়ারের পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন এলাকা নিমজ্জিত হচ্ছে।