জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পার্চিং পদ্ধতি

সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থার একটি অংশ হলো পার্চিং পদ্ধতি। নাটোরের সিংড়া চলন বিলের আবাদি জমিতে ক্ষতিকারক পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শে কৃষকরা এ পদ্ধতি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এ পদ্ধতিতে কীটনাশক ব্যবহার কমে আসবে এবং কৃষক লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। 

বুধবার বেলা ১১টায় পার্চিংয়ের উপকারিতা সম্পর্কে সিংড়া পৌর শহরের বালুভরা বিলে কৃষকদের অবহিত করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শারমিন সুলতানা। পরে ওই গ্রামের কৃষকরা নিজ উদ্যোগে জমিতে পাখি বসার জন্য বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পুঁতে দেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ফসলে ক্ষতিকারক পোকা দমনে অনেক আগে থেকে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এতে যেমন অনেক উপকারি পোকা মারা যায়, তেমনি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ক্ষতির চিন্তা করেই পার্চিংয়ের মতো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বালুভরা গ্রামের সামু মোল্লা বলেন, জমিতে পোকার আক্রমণ নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এখন পার্চিং পদ্ধতিতে কোনো খরচ ছাড়াই পোকা দমন করা যাচ্ছে। 

উপসহকারি কৃষি অফিসার শামিমা আক্তার জানান, মাজড়া পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, নলী মাছি, গল মাছি, চুঙ্গী পোকা ফসলের জন্য খুব ক্ষতিকারক। ডালে বসে পাখিরা জমির এসব পোকা খায়। এতে পোকামাকড়ের জন্য বালাইনাশকের প্রয়োজন হয়না। কৃষকের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, পার্চিং একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। উপজেলায় কৃষকদের এ ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে। এতে কীটনাশকের ব্যবহার কমে এসেছে।

ইত্তেফাক/অনি